ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ছেন প্রিন্স হ্যারি ও স্ত্রী মেগান। রাজ পরিচয় ত্যাগ করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে চান তারা। বুধবার সাসেক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় নিজেরাই জানালেন একথা। আকস্মিক এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়।
২০১৮ সালের মে মাসে বৃটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অনন্য এক জাকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরস্পরের জীবনসঙ্গী হন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও অভিজাত ৬০০ অতিথির উপস্থিতিতে বিয়ের বন্ধনে জড়ান তারা। রাজপরিবারের এই নতুন দম্পতি তখন থেকে পরিচিত হয়ে আসছেন ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স হিসেবে। রাজপরিবারের বাকিদের থেকে তাঁরা অন্যরকম। ছোট ছোট নানা ঘটনায় সে পরিচয় দিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি এবং তাঁর স্ত্রী মেগান।
বুধবারের বিবৃতিতে হ্যারি-মেগানের দাবি, অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। রাজপরিবারের 'সিনিয়র মেম্বার' হিসেবে গণ্য না হয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা চালাবেন তাঁরা। আর তার জন্য কিছু সময় ব্রিটেন, বাকি সময় উত্তর আমেরিকায় কাটাবেন। তবে, ব্রিটেনের রানি, কমনওয়েলথ এবং পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি দায়িত্ব পালনে কোনও ত্রুটি রাখবেন না।
হ্যারি-মেগানের ব্যাখ্যা, 'ভৌগোলিক এই বৈচিত্র্য আমাদের ছেলেকে রাজকীয় ঐতিহ্যে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে আমাদের পরিবার পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ভাবনাচিন্তার অবকাশ পাবে।' গত বছর জুনে 'ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ কেমব্রিজ ফাউন্ডেশন' থেকে আলাদা হয়ে 'সাসেক্স রয়্যাল চ্যারিটি' তৈরি করেছিলেন হ্যারি-মেগান। শীঘ্রই সেই দাতব্য কাজকর্ম শুরু করবেন তারা।
অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়া মানে রাজ কোষাগার থেকে আর অর্থ নেবেন না হ্যারি-মেগান। তবে নিয়মানুযায়ী তারা চাইলে বিদেশ সফরের ব্যয় রাজকোষ থেকেই যাবে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশ সেই খরচ বহন করবে।








