যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার পর ইরানে চলমান বিক্ষোভে তাজা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও তাজা গুলি চালিয়েছে ইরানি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আলাপ করে গুলি চালানোর কথা জানতে পেরেছে দ্য গার্ডিয়ান। তবে নিজস্ব অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এর সত্যতা নিশ্চিতে সক্ষম হয়নি তারা।
গত ৮ জানুয়ারি (বুধবার) জেনারেল সোলাইমানি হত্যার বদলা নিতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিনেই ১৭৬ আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনগামী বিমান। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ উইক তাদের অনুসন্ধানে দাবি করে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তেহরান বিমান ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করে। এরপর থেকেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়।
রবিবার রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে তারা নিহতদের স্মরণ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে গুলি চালায় পুলিশ। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিলো। তারা বারবার টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করছিলো। ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিলো না। সবাই চিৎকার করছিলো। আমার পাশে থাকা এক মেয়ের পায়ে গুলি লাগে।’
এছাড়া আজাদি স্কয়ারের পথে রক্ত লেগে থাকা এক ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যায় এমন ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন ইরানি অ্যাক্টিভিস্টরা। এক নারী ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ‘এটা আমাদের জনগণের রক্ত।’
আরেকটি ভিডিওতে একজন পুরুষকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সাতজনকে গুলি খেতে দেখেছি। সব জায়গায় রক্ত ছড়িয়ে ছিলো।’
আজাদি স্কয়ারের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে। আর একজন পুরুষ বলছেন, তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে এই ভিডিও কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি গার্ডিয়ান।








