প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যে একজন পুরুষ হয়েও দত্তক সন্তানকে প্রতিপালন ও তার প্রতি মায়ের দায়িত্ব পালনের অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন সাবেক সফটওয়্যার প্রকৌশলী আদিত্য তিওয়ারি। সে কারণেই পুরুষ হয়েও ‘সেরা মা’ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারতের বেঙ্গালুরুতে সেরা মায়ের সম্মাননা পাচ্ছেন সাবেক ওই ইঞ্জিনিয়ার।
প্রকৌশলী আদিত্য তিওয়ারি বলেন, ‘দেড় বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি অবিনাশের দায়িত্ব পেয়েছি। তারপর থেকে আমরা বাবা-ছেলে মিলে প্রচুর সংগ্রাম করেছি। আমার কাছে ঈশ্বরের দেওয়া সেরা উপহার ও। আমিই ওর মা, আমিই ওর বাবা। ভালো অভিভাবক হওয়ার পাশাপাশি আমি ওর কাছে একজন ভালো মানুষ হতে চেয়েছি।’
সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির বিরুদ্ধে গিয়ে পিতৃত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ সম্পন্ন এক বাবা তিনি। আর এখন সেরা মায়ের ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়ে গর্বিত তিনি। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতাও দেবেন আদিত্য।
উল্লেখ্য, বহু প্রতিকূলতা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবিনাশ নামের এক শিশুর দায়িত্ব নেন আদিত্য। ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত অবিনাশকে লালন পালন করতে গিয়ে তিনি দেখেন এসব শিশুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেই। এরপর চাকরি ছেড়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বাবা-মায়েদের কাউন্সেলিং করানো শুরু করেন আদিত্য।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের কীভাবে বড় করতে হবে, এ নিয়ে কথা বলার জন্য জাতিসংঘের সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকে। ভারতের ২২টি রাজ্যের ৪০০টি জায়গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে তিনি সভা, বৈঠক ও কর্মশালা করেছেন। এখনও তিনি যুক্ত আছেন সারা বিশ্বের ১০ হাজার বাবা-মায়ের সঙ্গে। তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন তিনি।








