করোনাভাইরাসের কবলে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টে কর্মরত এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাহাজটির প্রথম কোনও নাবিকের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। গুয়াম দ্বীপে আইসোলেশনে থাকা ওই নাবিক ৯ এপ্রিল থেকে অচেতন ছিলেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জাহাজটির পাঁচশ'রও বেশি নাবিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বর্তমানে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়াম উপকূলে নোঙর করে আছে। আর নাবিকেরা দ্বীপের অভ্যন্তরে আইসোলেশনে রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটির প্রায় ৯২ শতাংশ কর্মীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আর তিন হাজার ৭২৪ জনের ধরা পড়েনি। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জাহাজটির প্রায় চার হাজার নাবিককে।
গত ৩০ মার্চ থিওডোর রুজভেল্টের ক্যাপ্টেন ব্রেট ক্রোজিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে জাহাজে সংক্রমণ ঠেকানোর আহ্বান জানান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জাহাজে ভাইরাসটির বিস্তার দ্রুত হচ্ছে আর আবদ্ধ কোয়ার্টারগুলোতে আক্রান্তদের রাখা অসম্ভব হয়ে উঠছে। ওই চিঠিটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এনিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন মার্কিন নেভি সেক্রেটারি থমাস মুডলি।
সোমবার মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নাবিকের পরিচয় তার পরিবারকে জানানোর আগে প্রকাশ করা হবে না।’ ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ ওই নাবিকের সংক্রমণ শনাক্ত হলে তাকে অপর চার জনের সঙ্গে আইসোলেশনে রাখা হয়। দিনে দুইবার তাকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হতো। তবে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন তাকে নৌবাহিনী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথমবারের মতো কর্মরত কোনও নাবিকের মৃত্যু হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মী এবং তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি। মহামারিকে পরাজিত করতেও আমরা সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছি।’








