করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) অর্থায়ন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব জুড়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবহিতৈষী বিল গেটস থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এবং চীনও এই সমালোচনায় যোগ দিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আমেরিকান মেডক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও। ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন নষ্ট করার মতো সময় নেই, মহামারি মোকাবিলাই এখন তাদের একক মনোযোগ।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মূল দায়িত্ব পালনে ডব্লিউএইচও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি তহবিল স্থগিতের কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের তহবিল বন্ধের কোনও পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্যগত কর্মকাণ্ডে ডব্লিউএইচও’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর কোনও দেশ হিসেবে ডব্লিউএইচও’তে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ তহবিল যোগান দেয় যুক্তরাজ্য।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস এক টুইট বার্তায় বলেছেন, এই মুহূর্তে করার মতো সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ হলো ডব্লিউএইচও’তে তহবিল যোগানো। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত করোনা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে ছোট করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে কঠোর দুঃখ প্রকাশ করছে ২৭ দেশের এই জোট। মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও’কে এখনই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র সম্মিলিত শক্তি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা যায়, যে সংকট কোনও সীমানা মানছে না।’
নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দ্রা আর্ডেন বলেছেন, এই মুহূর্তে ভরসা করার মতো পরামর্শ কেবল ডব্লিউএইচও’র কাছ থেকেই পাওয়া যায়।
আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ভুল পথে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস হ্যারিস।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডব্লিউএইচও’র সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য দেখভাল করে। ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রের এই সংস্থাটি বিশ্ব জুড়ে টিকাদান কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয় এবং বিভিন্ন দেশে সহায়তা দিয়ে থাকে। সম্পদ ও জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নির্ধারিত ফি এবং স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদানের ওপর নির্ভর করে চলে সংস্থাটির কার্যক্রম। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটির প্রায় ১৫ শতাংশ বাজেট যোগান দেয়। যার পরিমাণ ৪০ কোটি ডলারের বেশি। একই সময় চীনের দেওয়া তহবিলের পরিমাণ আট কোটি ৬০ লাখের বেশি।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা








