যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার বিচারে এই ভাইরাসের সবথেকে বড় শিকার দেশটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন প্রেক্ষাপচে চীনের ওপর চাপ জোরালো করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের সমালোচকরা বলছেন, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চীনকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনকে দায়ী করে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উহানের একটি ল্যাবরেটরি থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে। ভাইরাস শনাক্তকরণ ও মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের থেকে চীনের সক্ষমতা বেশি-এমনটা প্রমাণ করার প্রচেষ্টায় এ কাজ করেছে বেইজিং।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইন্সটি্টিউট অব ভাইরোলজির যে ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে সেখানে নিরাপত্তায় ঘাটতি ছিল এবং কেউ একজন আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ওই আক্রান্ত ব্যক্তি আবার পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজারে যাওয়ার পর ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোভিড-১৯ ভাইরাস যে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়, সে তথ্য দ্রুত প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আর সে ব্যর্থতার কারণে উহানের বাইরেও ছড়াতে পেরেছে ভাইরাসটি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের কাছে এসব প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভয়াবহ এ পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বিশদ আকারে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছি।’ এ ব্যাপারে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা তা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘ল্যাবরেটরি নিয়ে তার সঙ্গে আমার যে কথোপকথন হয়েছে সে ব্যাপারে আমি আলোচনা করতে চাই না। এখন এটি করার যথার্থ সময় নয়।’
ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের পর ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। বলেন, আমরা জানি, ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনের উহান। ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি ল্যাব থেকে সেখানকার বাজারেরর দূরত্ব হাতে গোনা কয়েক মাইল। এ বাজার থেকেই মানুষ প্রথম আক্রান্ত হতে শুরু করে। পম্পেও আরও বলেন, ‘ঠিক কিভাবে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে সে ব্যাপারে চীন সরকারের খোলাখুলি কথা বলাটা জরুরি। এ ব্যাপারে চীন সরকারের স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।’ তবে নিজেদের একটি ল্যাব থেকে ভাইরাসটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি। উহানের এ প্রতিষ্ঠানটিতে ভাইরাস সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা হয়ে থাকে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির যে সংখ্যা উল্লেখ করছে তা নিয়েও সন্দিহান ট্রাম্প ও অন্য মার্কিন কর্মকর্তারা। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৩০০০। আর যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আক্রন্তের সংখ্যা বেশি, কারণ আমরা বেশি রিপোর্ট করছি। আপনারা কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে চীনের মতো এতো বড় দেশে আক্রান্ত ও প্রাণহানির যে সুনিদিষ্ট সংখ্যা তারা প্রকাশ করেছে তা কি বিশ্বাসযোগ্য? কেউ কি তা বিশ্বাস করবে?’
করোনাভাইরাসের উৎপত্তি কিভাবে তা নিয়ে এখনও গবেষণা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ মনে করে কোভিড-১৯ এর উৎস বাদুড় থেকে। এরপর অন্য একটি মাধ্যম হয়ে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলে বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি সম্ভবত প্রাকৃতিকভাবে হয়েছে। তবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। অবশ্য ট্রাম্পের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় নিজের দোষ ঢাকতে চীনের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।








