চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী হে জিয়ানগজিয়াংকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্বের অন্যতম গৃহ সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মাইদিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। গত রবিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের ফোসান শহরে এই ধনকুবেরের বিলাসবহুল বাড়িতে ঢুকে পড়ে আটক ব্যক্তিরা। পরে তার ছেলে পালিয়ে পুলিশকে খবর দিলে তাদের আটক করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় ফোসান পুলিশ একটি ফোন কল পায়। ওই কলে তাদের বলা হয়, কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিস্ফোরক ডিভাইস নিয়ে হে জিয়ানগজিয়াংয়ের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধনকুবেরের ৫৫ বছর বয়সী ছেলে হে জিয়ানফেং ওই ফোন কলটি করেন। প্রযুক্তি বিষয়ক নিউজ ওয়েবসাইট টিএমটির খবরে বলা হয়েছে, মাইদিয়া গ্রুপের এই পরিচালক বাড়ি থেকে পালিয়ে সাঁতার কেটে নদী পার হয়ে ওই ফোন কলটি করেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় সাড়া দেওয়ার সময় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তাদের নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয় পুলিশ। এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি কিছুটা বেশি ভয় পেয়ে গেছিলাম, কারণ আশেপাশের এলাকা থেকে আমাদের এলাকায় নিরাপত্তা বেশি কঠোর বলেই ভাবতাম।’ ফোসান পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অপহরণ চেষ্টার পর পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী হে জিয়ানগজিয়াং। মোট ২ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি চীনের ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তার অবস্থান ৩৬তম।
১৯৬৮ সালে ২৬ বছর বয়সে মাইদিয়া গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন হে জিয়ানগজিয়াং। বোতলের ছিপি আর গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাণ দিয়ে ব্যবসা শুরু করা কোম্পানিটি এখন সারা চীনেই গৃহ সরঞ্জাম ও বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশন তৈরির জন্য বিখ্যাত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোবোটিকস নির্মাতা জার্মান কোম্পানি কুকার মালিকানাও কিনে নিয়েছে মাইদিয়া গ্রুপ।








