ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে বন্দুকযুদ্ধে ১৪ জন নিহতের ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বন্দুকনীতিটি আলোচনায় ফের উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, কেবল শিথিল বন্দুকনীতির কারণেই ২০১৫ সালে আমেরিকায় বন্দুক হামলায় ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার।
শুটিং ট্র্যাকার আর্কাইভের তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোট ঘটনা ঘটেছে ৩৫৩টি। এতে মোট নিহতের সংখ্যা ১২,২২৩ জন। আর সব মিলিয়ে আহত হয়েছেন ২৪,৭২২ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিনই গুলিতে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। তবে, সে সব ঘটনার পুরোটাই মানুষের সামনে আসে না। কেবল কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোনও জমায়াতে হামলা হলেই, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
জরিপকারী সংস্থা পলিফ্যাক্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ১৯৬৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বন্দুক বা পিস্তলের গুলিতে আমেরিকায় ১৪ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
বন্দুকসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে তিনি এ পর্যন্ত ১৫বার বিবৃতি দিয়েছেন। তাতেও ফল পাওয়া যায়নি। কারণ, এ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। এ ব্যাপারে যথেষ্ট সমর্থন নেই মার্কিন কংগ্রেসের।
আমেরিকায় এখন কী পরিমাণ বন্দুক বা পিস্তলের ব্যবহার হচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনও পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, এর পরিমাণ ৩০ কোটি, যেটি আমেরিকার জনসংখ্যার প্রায় সমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংবাদ মাধ্যমকে একটি বিষয় তুলনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেটি হচ্ছে, সন্ত্রাসী হামলায় কতজন আমেরিকান মারা গেছেন, আর অন্যদিকে নিজ দেশে বন্দুকের গুলিতে কতজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আমেরিকা প্রতি বছর এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। অথচ সন্ত্রাসী হামলায় যে পরিমাণ মানুষ নিহত হন, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ নিহত হন অভ্যন্তরীণ বন্দুক হামলায়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, মানসিকভাবে অসুস্থ লোকদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা উচিত নয়। তবে, মার্কিন কংগ্রেসের ভোটাভুটির 'জটিল হিসাব-নিকাশের কারণে' জনগণের সঠিক মতামত প্রতিপালন করতে পারেন না অধিকাংশ কংগ্রেসম্যান। এ কারণেই আগ্নেয়াস্ত্রের শিথিল নীতির ব্যাপারে স্বয়ং প্রেসিডেন্টের ঘোরতর আপত্তি থাকলেও, সেটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
/এইআর/
আপ-/আরএ/








