যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সব সময়ের রেকর্ড পার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৪০ হাজারের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে ৩৬ হাজার ৪০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে তখন কম ছিল।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই মহামারিতে এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৪ লাখের বেশি মানুষের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষা সংখ্যা বাড়ানোর পর পজিটিভ রেজাল্ট পাওয়ার সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা যে পরিমাণ আক্রান্ত হিসেব করা হয়েছে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, প্রায় ২ কোটি মার্কিন নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা থেকে এই ধারণা করা হচ্ছে। সংগৃহীত এসব রক্তের নমুনায় করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশে এই পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, সিডিসি’র প্রধান ড. রবার্ট রেডফিল্ড।








