নির্বাচনের অল্প কিছু দিন বাকি থাকতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত কেলিয়ান কনওয়ে। রবিবার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, আগস্টের শেষের দিকে ইস্তফা দেবেন। সন্তানদের সময় দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। কনওয়ের স্বামী ও ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক জর্জও রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কেলিয়ান কনওয়ে একজন রিপাবলিকান কৌশলপ্রণেতা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। হোয়াইট হাউজে চার বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা পরিচালনাকারী প্রথম নারীও তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে তার ভূমিকা ছিল।
হোয়াইট হাউজে সিনিয়র কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কনওয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টার কাজ করেছেন। প্রশাসনে বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল তার। কনওয়ের স্বামী রিপাবলিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি দ্য লিংকন প্রজেক্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রার্থিতা ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এ কমিটি।
৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর ঠিক আগ মুহূর্তে পদত্যাগের প্রসঙ্গে রবিবার কনওয়ে জানান, পুরোপুরি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সময় হলেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাবেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত চার বছর আমার জন্য কতটা আশীর্বাদপুষ্ট ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জর্জ ও আমার মধ্যে প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে। তবে যা কিছুই হোক না কেন, সন্তানদের প্রশ্নে আমরা অবিভক্ত।’
কনওয়ে আরও বলেন, ‘আমাদের চার সন্তান কিশোর বয়সী এবং যমজ। তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে যাচ্ছে। অন্তত কয়েক মাস বাড়ি থেকে তাদের এ শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। দেশের লাখ লাখ মা-বাবাই জানেন যে বাচ্চারা যখন বাড়ি থেকে ক্লাস করছে তখন তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়, দেখে রাখতে হয়; যা এ মুহূর্তে আমি করতে পারছি না।’
মেয়ে ক্লাইডিয়া মায়ের প্রতি অভিমান করে টুইটারে একটি পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় কনওয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। টুইটে ক্লাইডিয়া অভিযোগ করেছিল, মায়ের চাকরির কারণে তার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। পোস্টটি পরে ভাইরাল হয়ে যায়।
এ সপ্তাহের শেষদিকে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে এ নেতার। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও তিনি ওই বক্তব্য দেবেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।








