হংকং-এ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের দায়ে নতুন করে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্রপন্থী দুই আইনপ্রণেতাও রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চালানো এক অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তাদের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা লাম চিউক তিং ও টেদ হুই চি ফুং-কে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বিক্ষোভে সহিংসতার জন্য লাম চিউককে দায়ী করা হয়েছে। সেসময় একটি মিছিল শেষ করার পর বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালিয়েছিল মুখোশধারীরা। ওই ঘটনায় লাম চিউকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। গণতন্ত্রপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের সুরক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে।
লাম চিউক তিং ও টেদ হুই চি ফুং-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাদের গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হুই এর কার্যালয় তার গ্রেফতারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে পুলিশদের বলতে শোনা গেছে যে হুইকে আদালত অবমাননার প্রচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৬ জুলাইয়ের বিক্ষোবের সময় সম্পদের ক্ষতি সাধন করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত নিরাপত্তা আইনে মিডিয়া টাইকুন জিমি লাইকে গ্রেফতারের দুই সপ্তাহের মাথায় দুই বিরোধীদলীয় নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলো।
১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং-কে চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে অঞ্চলটি ‘এক দেশ, দুই নীতি’র আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। তবে গত বছর অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেখানে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বেইজিং। ৩০ জুন সর্বসম্মতভাবে এ সংক্রান্ত বিলে পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর সেদিনই এতে স্বাক্ষর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এই আইনে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিধ্বংসী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ অথবা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে ঢালাও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়া তারা তল্লাশি করতে পারবে, সামাজিক মাধ্যম থেকে যে কোনও মেসেজ ডিলিট করতে পারবে এবং গ্রেফতার করতে পারবে।








