গত বছরের বিক্ষোভ দমন করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে রেখেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনা। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করতে নির্যাতন চালানো হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় সাত হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে দশ বছরের শিশুও রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত বছরের নভেম্বরে ইরান জুড়ে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ২৩০ জন নিহতের কথা স্বীকার করে ইরান। ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ওই বিক্ষোভ দমন করে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। ওই সময়ে গ্রেফতার হওয়া মানুষের মধ্যে অনেকের সাক্ষাৎকার ছাড়াও ভিডিও রেকর্ডিং, আদালতের নথি এবং কর্তৃপক্ষের বিবৃতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
মানবাধিকার সংস্থাটির মঙ্গলবার প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারে বিনা বিচারে আটক, গুম, নির্যাতন এবং অন্য অসদাচরণের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের নির্যাতনের মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া, বিরোধী গ্রুপের সদস্য হওয়া কিংবা বিদেশি সরকার ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয় ওই প্রতিবেদনে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপপরিচালক ডায়ানা এলতাহাওয়ে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ অপরাধ সংঘটন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি জোর করে বিক্ষোভকারীদের স্বীকারোক্তি আদায় করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করেছে। নির্যাতনের ধরনের মধ্যে ছিল ওয়াটারবোর্ডিং, মারধর করা, ইলেক্ট্রিক শক, যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া প্রয়োগ, যৌন হয়রানি এবং আঙুল ও নখ তুলে নেওয়া। ইলেক্ট্রিক শকের নির্যাতনের শিকার হয়ে অ্যামনেস্টিকে স্বাক্ষ্য দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যেন লাখ লাখ সুঁচ আমার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তেহরান। তবে এর আগে প্রকাশ হওয়া সংস্থাটির আরেকটি প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।








