যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এ বছর শুরু হওয়া দাবানল একের পর এক আশঙ্কাজনক মাইলফলক পার করে ফেলছে। ইতোমধ্যে এই দাবানলে পুড়ে গেছে ৪৯ লাখ একর ভূমি, প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৩০ জন মানুষের, ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার মানুষের বাড়িঘর। তারপরও এই দাবানল থামছেই না। কানেকটিকাটের চেয়েও বড় একটি এলাকায় নতুন করে আগুন শুরু হয়েছে আর উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াইন কাউন্টিতে (ছোট প্রশাসনিক এলাকা) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল নাগাদ সেখানে চরম আগুন সতর্কতা জারির পূর্বার্ভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নাপা ও সোনোমো কাউন্টির মধ্যকার পাহাড়ের মধ্য দিয়ে ঘণ্টায় ৪৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে থাকায় সেখানকার ২৮ হাজারেরও বেশি বাড়ি আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১৫ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চলে দাবানল শুরু হয়। তখন থেকে কয়েক হাজার দাবানলের কবলে পড়েছে মার্কিন অঙ্গরাজ্যটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বজ্রপাত থেকে শুরু হয় এসব অগ্নিকাণ্ড। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আগুন জ্বলে ওঠার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকাও থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারে এসব দাবানল ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে রেকর্ড পরিমাণ এলাকার বনভূমি।
সোনোমা কাউন্টির এক মুখপাত্র পল গালিক্সন বলেন, ‘এটা ভয় পাওয়ার মতো সময়।’ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বন ও আগুন সুরক্ষা দফতর বা ক্যাল ফায়ারের উপপ্রধান বিলি সি জানান, পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টা তারা বড় ধরণের আগুন মোকাবিলা করতে যাচ্ছেন। তার প্রস্তুতি হিসেবে ক্যালিসটোগা শহরের অভ্যন্তর এবং আশেপাশে বেশি করে কর্মী ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
নাপা কাউন্টির পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত পাঁচ হাজার মানুষের বসতির শহর ক্যালিসটোগা সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। দাবানলের কারণে ওই এলাকা এখন উচ্চ তাপমাত্রা এবং আকাশে ধোঁয়ার আস্তরণ প্রত্যক্ষ করছে। সান ফ্রান্সিসকো উপকূলেও দেখা যাচ্ছে ধোঁয়ার আস্তরণ।
দাবানল কবলিত নাপা কাউন্টি বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম। সেখানে তিনি জানান, দাবানল মোকাবিলায় বিশেষ করে আগামী ৩৬ ঘণ্টা বাতাস বয়ে যাওয়ার সময়ে রাজ্য সরকারের কাছে থাকা সব সম্পদই ব্যবহার করা হবে।
সেখানকারকার পুড়ে যাওয়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে গভর্নর গেভিন নিউসাম বলেন, ‘আমার চার শিশু সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে আর এসব ছবি দেখার পর শিশু, তাদের বাবা-মা, পরিবারগুলোর ওপর দিয়ে কী যাচ্ছে তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল এই সময়ের জন্য এখানে আসিনি। আপনাদের স্কুল পুননির্মাণ এবং পুনর্বিন্যাসের জন্য আমরা এখানে। আপনাদের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২৪টি বড় দাবানল ঠেকাতে কাজ করে চলেছে প্রায় ১৭ হাজার অগ্নি নির্বাপণ কর্মী। বেশ কিছু জরিপে দেখা গেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় দাবানল চলছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ক্যালিফোর্নিয়া শুষ্ক হয়ে পড়েছে। যাতে করে গাছ এবং অন্যান্য উদ্ভিদ বেশি দাহ্য হয়ে উঠেছে।
অঙ্গরাজ্যটির অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা বলছেন, সোনোমা কাউন্টি সংলগ্ন এলাকার দাবানল মোকাবিলাকেই এখন তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই দাবানলে ইতোমধ্যে ছয়শ’ ভবন ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ২২০টি বাড়ি এবং প্রায় একই সংখ্যক বাণিজ্যিক অবকাঠামো রয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।








