যুক্তরাষ্ট্রের এক কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে ওই চিকিৎসক অভিযোগ করে গেছেন, শুধু গায়ের রঙের কারণেই তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসে এই ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় মারা যাওয়া চিকিৎসকের নাম সুসান মুর (৫২)। ৪ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বিছানা থেকে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। সেখানে বলেন, তার শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসকের কাছে বাঁচার জন্য তিনি ‘চিকিৎসা ভিক্ষা’ পর্যন্ত করেছিলেন। এরপরও তা পাননি। গত রবিবার সেখানকার অন্য একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
২৯ নভেম্বর মুরের কোভিড–১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। উচ্চ জ্বর নিয়ে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থে ভর্তি হন। তখন তার কাশির সঙ্গে রক্তও পড়ছিল। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল।
সুসানের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য তিনি কান্নাকাটি করেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান। কিন্তু এরপরও তিনি চিকিৎসা পাননি। তিনি আরও লেখেন, ‘তিনি (চিকিৎসক) আমার একটি কথা পর্যন্ত শোনেননি। একবারের জন্যও আমাকে স্পর্শ করেননি। কোনও শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষাও করাতে দেননি ওই শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসক।’ চিকিৎসক মুর আরও বলেন, ‘ওই চিকিৎসক আমাকে একজন মাদকাসক্ত হিসেবে মনে করেন। তিনি জানতেন, আমি একজন চিকিৎসক। আমি মাদক গ্রহণ করি না।’
চিকিৎসক সুসান মুরের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বর্ণবৈষম্যের অভিযোগটি খুব গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য সমান চিকিৎসা দিতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে ওই মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য করেনি তারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সুসান মুরের ১৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। মা–বাবাও জীবিত। তবে তারা ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন সুসান। গো–ফান্ডমি নামের একটি অনলাইন পেজ খুলে তার পরিবারকে সহায়তার জন্য অর্থ তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১ লাখ ২ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে।
ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওতে চিকিৎসক মুর বলেন, তিনি অ্যান্টিভাইরাল রেমডিসিভির প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন। বুকের স্ক্যান করারও অনুরোধ করেন। তখন একজন চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা ভালো। এই ওষুধ নেওয়ার মতো অবস্থা তার হয়নি, বরং বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত। মুর বলেন, চিকিৎসা না পেয়ে তিনি অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। পরে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অন্য হাসপাতালে গিয়ে জীবন নিয়ে আর ফিরতে পারেননি মুর।
গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গরা বেশি করোনার ঝুঁকিতে। ২০১৫ সালের আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ রোগীর চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে দেখা যায় স্বাস্থ্যকর্মীদের।








