ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত টিকাদানে এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল। এরইমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে টিকা দিয়েছে দেশটি। টিকাদানের হার ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সংশ্লিষ্ট একটি গ্লোবাল ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য তথ্য অনুযায়ী, টিকাদান কর্মসূচিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ইসরায়েলের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাহরাইন।
ইসরায়েলে যেখানে টিকাদানের হার ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ সেখানে বাহরাইনে এ হার ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে এ হার ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছে। এ টিকার মোট দুইটি ডোজ নিতে হয়।
এদিকে ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও ইসরায়েলে প্রায় ২৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ভ্যাকসিন মানুষের দেহে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু করতে সময় নেওয়ায় এ জটিলতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফাইজারের তৈরি এ ভ্যাকসিনের দুইটি ডোজ নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দাবি, প্রথম ডোজ দেওয়ার আট থেকে ১০ দিন পর কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ ইমিউনিটি তৈরি হয়। প্রথম ডোজের ২১ দিন পর দিতে হয় দ্বিতীয় ডোজ। আর এর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ৯৫ শতাংশ ইমিউনিটি অর্জিত হয়। অর্থাৎ ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫ শতাংশ।
মহামারি শুরু হওয়ার পর পরই ইসরায়েল টিকা পাওয়ার জন্য ফাইজার-বায়োএনটেকের সঙ্গে সমঝোতা সেরে ফেলে। এর পর দেশটি ধাপে ধাপে ফাইজারের টিকার চালান নিশ্চিত করে। এই টিকাটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ইসরায়েলে ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফাইজার/বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগের কাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। সেদেশে প্রতিদিন দেড় লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ষাটোর্ধ ব্যক্তি ছাড়াও স্বাস্থ্য-কর্মী এবং যারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর হাজারে একজনের মধ্যে হালকা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা জ্বর আসা, ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ফোলাভাব এবং লাল হয়ে যাওয়া। সূত্র: বিবিসি।









