ভারতের পাঞ্জাবে আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-র একজন বিধায়ককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের নয়া কৃষি আইনের সমর্থনে সাংবাদিক সম্মেলনে যাওয়ার সময় ওই নেতাকে ঘিরে ধরে উত্তেজিত কৃষক-জনতা। ওই নেতা এবং তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে প্রথমে কালি ছোড়া হয়। কোনও রকমে ভিড় কাটিয়ে স্থানীয় একটি দোকানে তাদের ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ।
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে হয়েছে ভেবে দোকান থেকে বেরিয়ে যায় তারা। মুহূর্তের মধ্যেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। কিল, চড়, ঘুষি উড়ে আসতে থাকে ভিড়ের মধ্যে থেকে। ওই নেতার পরনের জামা পর্যন্ত ছিঁড়ে যায়। উত্তেজিত জনতার ভিড়ের মধ্যে থেকে পুলিশ ওই নেতাকে কোনওমতে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার পঞ্জাবের মুক্তসর জেলার মলোটে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। নিগৃহীত ওই বিজেপি নেতার নাম অরুণ নারং। অবোহারের বিধায়ক তিনি। মলোটে বিজেপি-র দলীয় কার্যালয়ে কৃষি আইনের সমর্থনে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল তার। সেখানে তার আসার খবর পেয়ে ভিড় করে সাধারণ মানুষ এবং কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা একদল কৃষক। পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে বুঝে তড়িঘড়ি অরুণকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যেতে উদ্যত হয় পুলিশ। কিন্তু উত্তেজিত জনতা কার্যত ওই বিধায়ককে তাড়া করতে শুরু করে।
যে দোকানে ওই নেতাকে ঢুকিয়ে ভিতর থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই দোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।
মালোট পুলিশের ডেপুটি সুপার জসপাল সিংহ বলেন, ‘ওই বিজেপি নেতাকে কিছুতেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে দেবেন না বলে জেদ ধরে বসেছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমাদের এক কর্মীও চোট পেয়েছেন।’
ঘটনার পর সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলেন হামলার শিকার বিজেপি নেতা অরুণ নারং। তিনি বলেন, ‘এলোপাতাড়ি ঘুষি মারা হয় আমাকে। জামাকাপড়ও ছিঁড়ে দেওয়া হয়।’
এ নিয়ে তিনি নিজে এখনও থানায় অভিযোগ জানাননি। জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহের দফতর থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দফতরের টুইটে বলা হয়েছে, অবোহারের বিজেপি বিধায়কের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে-ই হোন না কেন, রাজ্যের শান্তি বিনষ্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের অশান্তি যাতে আরও মাথাচাড়া না দেয়, তার জন্য কৃষি আইন নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধানসূত্র খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সংযুক্ত কিসান মোর্চার নেতা দর্শন পালও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। বিগত কয়েক মাস ধরে তার নেতৃত্বেই কৃষক আন্দোলন চলে আসছে। তিনি বলেন, ‘অবোহারের বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কৃষকরা। বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার ধারণ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা উচিত হয়নি। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে একেবারেই সমর্থন নেই আমাদের। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।’
আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে, শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালানোর আবেদন জানান তিনি। কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল এবং বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই ঘটনার সমালোচনা করেছে। সূত্র: আনন্দবাজার।









