পরিজনের মৃত্যুর সংবাদ অনলাইনেই পেয়েছিলেন মাহমুদ। প্রথমে রসিকতা ভেবে উড়িয়ে দিতে চাইলেও পরে জেনেছেন সত্যিই তার আত্মীয় ছিলেন আইএসের হত্যা করা পাঁচজনের মধ্যে একজন।
মাহমুদ বলেন, ‘ওই ভিডিও দেখার সাহস আমার হয়নি। খুলেও একটু পর বন্ধ করে দিয়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, তার ভাই ছিলেন চার সন্তানের পিতা। পরিবারের জন্য জীবিকা নির্বাহেই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। মাহমুদ বলেন, ‘চার মাস আগে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা ভেবেছিলাম আইএস তো প্রায়শই এমন গণগ্রেফতার করে থাকে। হয়তো কিছুদিন পর ছেড়ে দেবে।’
আইএস প্রচারিত সবশেষ ভিডিওতে মাথায় গুলি করে পাঁচ বন্দিকে হত্যা করা ছাড়াও ইংরেজি ভাষাভাষী এক ব্রিটিশ জিহাদি হুমকি উচ্চারণ করেন ডেভিড ক্যামেরন ও যুক্তরাজ্যের প্রতি। সিরিয়া ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে সক্রিয় মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিও হুমকি ও সতর্কবার্তা রয়েছে ওই ভিডিওটিতে।
সিরিয়ার রাক্কা ও ইরাকের মসুলের বেশ কিছু মানবাধিকার কর্মী তুরস্কে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। প্রায় বছরখানেক ধরেই রাক্কায় বিমানহামলা, জঙ্গি হামলা ও অন্যান্য বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে দিতেন বেশ কিছু অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট। এদের অনেকেই আইএস জঙ্গিদের হাতে নিহত হন। গত বছরের শেষে রাক্কায় স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও ইন্টারনেট লাইন কেটে দেয় আইএস। সঙ্গে এও ঘোষণা করে, কেউ টিভি বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলে তাদের হত্যা করা হবে।
রাক্কায় কর্মরত সাংবাদিক রোকেয়া হাসান ও চলচ্চিত্রকার নাজি জারফকে হত্যা করে আইএস। রোকেয়া তার সর্বশেষ পোস্টে লেখেন, ‘আমি এখন রাক্কায় আছি। আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আইএস আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেললেও কোন সমস্যা নেই। তারা হয়তো আমার শিরশ্ছেদ করবে, তাতেও আমার সম্মান বাঁচবে, অসম্মানের মধ্যে বেঁচে থাকার চেয়ে এও ভালো।’
এদিকে জারফকে হত্যা করা হয় তুরস্কেই, গত ডিসেম্বরে গাজিয়ানতেপ নগরে শব্দহীন পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।এর মাত্র মাস দুয়েক আগে আরও দুই সিটিজেন জার্নালিস্টকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করে আইএস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বলেন, ‘আমরা ২০১২ থেকেই প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছি। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা প্রতি মাসের বাড়ি বদলাই, কেউ কেউ এক শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাই। আগে সিরিয়া ছেড়ে তুরস্কে চলে যাওয়া যেতো, কিন্তু এখন তুরস্কের অবস্থাও সিরিয়ার মতই ভয়াবহ।’ সূত্র- গার্ডিয়ান
/ইউআর/বিএ/








