মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

উদিসা ইসলাম
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০২আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪২

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর)  শুধু ছেলে ও পুরুষদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর)  ছেলেরা স্কুলে গেলেও ছেলে- মেয়ে নির্বিশেষে প্রতিবাদ জানিয়েছে মেয়েদের স্কুলে যেতে অনুমতি না দেওয়ায়। কেউ কেউ নানা বার্তা লিখে টুইটারে পোস্ট করেছে। যদিও এক তালেবান মুখপাত্র বলেছেন, শিগগিরই মেয়েদের স্কুল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আফগানরা তালেবানের ১৯৯০ দশকের কঠোর শাসন ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন। ওই সময় মেয়েদের স্কুলে পড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

. শনিবার আবারও অন্ধকার যুগের শুরু হলো আফগানিস্তানে। স্কুল খুললো বটে, কিন্তু তা কেবল ছেলেদের জন্য।

এবিপি নিউজের সাংবাদিক লিখেছেন, এটাই তালেবানদের আসল রূপ। শিক্ষামন্ত্রী স্কুল খুলে ছেলেদের আসার আহ্বান জানালেও তার ওই বার্তায় মেয়েশিশুরা কবে ক্লাসে ফিরতে পারবে, তার কোনও ইঙ্গিত ছিল না।

. ডেইলি আউটলুক-আফগানিস্তানের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ সাখি রেজায়ি টুইটারে লিখেছেন, ‘শিক্ষা মেয়েশিশুর মৌলিক মানবাধিকার। যদি নতুন তালেবান আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদ মানে, তাহলে তারা অবশ্যই মেয়েশিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনবে।’

শনিবার স্কুলে যেতে না পারা মেয়েশিশু প্ল্যাকার্ড হাতে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়— ঠিক কী কারণে আমি স্কুলে যেতে পারবো না। এক ভাই তার বোনের স্কুলে না যেতে পারার কারণে নিজে স্কুল না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আপলোড করে সে জানিয়ে দেয়, আমার বোনের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি না মিললে আমি স্কুলে যাবো না।

. ইউনিসেফ প্রধান হেনরিয়েটা ফোর মনে করেন, মেয়েদের অবশ্যই বাদ দেওয়া উচিত না। কোনও বিলম্ব ছাড়া বয়স্কসহ সব মেয়ের শিক্ষাগ্রহণ পুনরায় শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আফগানিস্তানে নারী শিক্ষকদের শিক্ষাদান আমাদের জারি রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আফগানিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা বলেছিল যে, শরিয়া আইনের আওতায় নারীরা পড়াশোনা এবং কাজ করার অনুমতি পাবে। কিন্তু কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তার অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়। শনিবার স্কুলে যাওয়াও রোধ করা হলো।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
পাকিস্তান থেকে ফেরা আফগান শরণার্থীদের ট্রাক উল্টে নিহত ১৮
কুমারী মেয়ের ‘নীরবতাই’ বিয়ের সম্মতি, তালেবানের নতুন আইন
কী, কেন, কীভাবেট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় ভেস্তে যাচ্ছে ভারতের ‘চাবাহার স্বপ্ন’
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম