চার ইরানীয় আমেরিকানকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। এদের মধ্যে একজন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জেসন রেজাইন। পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। রেজাইনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিলো। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানে চারজন মার্কিন নাগরিকই আটক ছিলেন। তেহরানের সূত্রের বরাতে তারা জানায়, বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে ওই মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর সংবাদ সংস্থা ফার্সের দাবির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছয়জন আমেরিকান ইরানী নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার পর তেহরানের তরফে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে চার ইরানীয় আমেরিকানকে মুক্তি দিয়েছে তারা। বন্দিদের সবার দ্বৈত নাগরিক ছিলেন।
এরআগে শনিবারই ইরানের উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে আশাবাদ জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। জারিফের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, “আজকের (শনিবার) দিনটি ইরানের জনগণের জন্য খুব ভাল একটি দিন। কারণ আজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।”
ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে আলোচনার জন্য বর্তমানে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থান করছেন জারিফ। ইন্টারন্যাশনাল অটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) প্রধান কার্যালয়ও ভিয়েনায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে ‘ইরান চুক্তি অনুযায়ী তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করেছে’ ইন্টারন্যাশনাল নিউক্লিয়ার ওয়াচডগ আইএইএ’র পক্ষ থেকে শনিবার এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ইরানের সামনে হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য উন্মুক্ত হবে। সেই সঙ্গে মুক্ত হবে তাদের তেলের বাজার। প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনার পর গত বছর জুলাইয়ে বিশ্ব ছয় শক্তি যু্ক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয় ইরান। চুক্তি অনুযায়ী ইরান আগামী অন্তত ১০ বছরের জন্য নিজেদের পরমাণু সমৃদ্ধিকরণ কমিয়ে আনবে। বিনিময়ে তাদের উপর থেকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ওই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুরুতে বিরোধিতা করলেও পরে ওই চুক্তিতে সমর্থন দেন। ছয় বিশ্বশক্তির তরফেও চুক্তিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
/বিএ/








