শীত কিংবা অন্য কোনও কারণ নয়, নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। পুলিশ এবং নিরাপত্তা সূত্র পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে এই খবর নিশ্চিত করেছে। এরআগে ২৮ জানুয়ারি ডনের খবরে বলা হয়, পাঞ্জাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও, পাকিস্তানের অন্যান্য রাজ্যেও স্কুল খোলা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারিভাবে এ ধরনের কোন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) ডনের খবরে বলা হয়, সব স্কুল-কলেজ সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও, নির্দেশের পেছনে প্রকৃত কারণ কী; তা জানে না স্কুল কর্তৃপক্ষও।
তবে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) ডন জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অন্তত ২৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৮টি সরকারি স্কুল-কলেজও রয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি মেডিক্যাল কলেজও রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়। এতে আগামী রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঝিলাম এলাকায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি সরকারি এবং পাঁচটি প্রাইভেট স্কুল রয়েছে। চকওয়াল শহরে চারটি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি স্কুলের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। এরইমধ্যে সেখানকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবের অ্যাটক জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এতে দেখা গেছে, সেখানকার ২০৫টি স্কুল-কলেজে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ১২৭টি সরকারি স্কুল এবং ৭৮টি বেসরকারি স্কুল। এর আগে পাঞ্জাবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে এটা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল যে, তাদের ভবনগুলো নিরাপদ।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য স্ব স্ব এলাকার পুলিশ প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালাতে পারে। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সাজিদ জাফর ডল জানান, সতর্ক নোটিস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২২টি রাওয়ালপিন্ডিতে, ১৫টি ঝিলাম এলাকায়, ১০টি পাঞ্জাবের অ্যাটক জেলায় এবং ছয়টি চকওয়াল জেলায়।
গত ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানের পেশোয়ারের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার হামলাকারীও নিহত হয়। আর চলতি মাসে এক ভিডিও বার্তায় আবারও পাকিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দেন তালেবান কমান্ডার উমর মনসুর। অবশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হামলার সমালোচনা করেছে তালেবানের অপর অংশ। সূত্র: ডন।
/এমপি/বিএ/








