সিলেটসহ দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতিতে দেশে থাকা স্বজনদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ছোবলে লণ্ডভণ্ড পুরো সিলেট।
ইতোমধ্যেই সিলেট বিভাগের ৮০ ভাগ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৯০ ভাগ পানির নিছে তলিয়ে গেছে। সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলা। সেই বন্যার ঢেউ আছড়ে পড়ছে লন্ডনের বাংলাদেশি অভিবাসীদের মনে। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের কয়েক লাখ মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
দুর্দিনে স্বজনদের দুর্দশার কথা ভেবে এবং বিপদের সময় পাশে না থাকতে পারায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনেকে প্রবাসীর দেশে তালাবদ্ধ থাকা শখের বাড়িঘরের বেহাল দশা। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দেশের বাড়ির গ্যারেজের থাকা শখের গাড়ি। অনেক এলাকায় সোমবার (২০ মে পর্যন্ত) পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্বজনরা কী অবস্থায় আছেন সেটি জানতে না পারছে না প্রবাসীরা।
ইস্ট লন্ডনের বাসিন্দা আবু তাহের আজিজ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। তিনি সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্যার্ত স্বজনদের কথা ভেবে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে আবু তাহের আজিজ বলেন, ‘ঘুমাতে চেষ্টা করছি কিন্তু ঘুম আসছেনা। মাথায় বারবার একই চিন্তা ঘুরপাক করছে এই দুর্গতরা কই যাবে কি খাবে তাদের গৃহপালিত পশু কই রাখবে কি খাওয়াবে? বন্যা পরবর্তী দুর্গতি মানুষ কেমনে কাটিয়ে উঠবে...?’
হাফেজ আব্দুল মোবিন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড শহরের বাসিন্দা। দেশে তার পরিবার সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। তিনি পানিতে তলিয়ে যাওয়া তার বাড়ির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমাদের এলাকার বন্যার পরিস্থিতি খুবই খারাপ ৮০% বাড়ি ঘরে পানি উঠে গেছে। গরু-ছাগল রাখার জায়গা নেই। মানুষ অসহায়। বৃষ্টি চলতেছে পানি এখনও বাড়তেছে। আল্লাহর দয়া ছাড়া কোন উপায় নাই।’
দুর্গতদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছেন লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ইতোমধ্যেই ব্যক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কিছু বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন ও চ্যারিটি সংস্থাগুলো। বিভিন্ন কমিউনিটি চ্যানেলগুলোতেও ফান্ড রেইজিং হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বন্যার্তদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন লন্ডন প্রবাসীরা।
টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র এবং বর্তমান কাউন্সিলর অহিদ আহমদ তার পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলেটের গোলাপগঞ্জে থাকা নিজেদের বাড়ি ও মাদ্রাসা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য খুলে দিয়েছেন। বন্যার পানি চলে যাওয়া না পর্যন্ত তাদের থাকা, খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
লন্ডনের বর্ষীয়ান সাংবাদিক রেনু লুৎফা বলেন, সিলেটের ইতিহাসে এমন দুর্যোগ শত বছরেও কেউ দেখেনি। পরিবার, স্বজন ও দেশের কঠিন সময়ে দূর থেকেও সর্বস্ব দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন লন্ডন প্রবাসীরা।
তিনি বলেন, বন্যা উপদ্রুত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন লাখ লাখ পাউন্ড সাহায্য তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির টিভি চ্যানেলগুলো লাইভ আপিলের মাধ্যমে টাকা তুলছে। এর বাইরে বিভিন্নভাবে বন্যার্ত মানুষের জন্য টাকা তোলা হচ্ছে। এসব অর্থ যেন সঠিকভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পান সেটি আমাদের দেখা উচিত।
রেনু লুৎফা বলেন, বন্যা উপদ্রুত নিজের এলাকায় নিজের স্বজনদের, প্রতিবেশীদের সবার আগে হক সাহায্য পাবার।
সাপ্তাহিক বাংলা সংলাপ সম্পাদক মশাহিদ আলী বলেন, সিলেটবাসীর জন্য যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা যেভাবে এগিয়ে আসছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুর্গত এলাকার জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও চ্যারিটি প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য করতে পারে।









