রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর

দুর্বল রাশিয়াও ইউরোপের ‘মাথাব্যথা’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:০৮আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯:০০

ইউক্রেন অভিযানের এক বছর হলেও, যুদ্ধে তেমন সাফল্য পাননি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপকে অস্ত্রের প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। তারপরও ইউরোপ ধুঁকছে মন্দায়। এ জন্য যুদ্ধে রাশিয়া হেরে গেলেও, সহসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে না ইউরোপ।

সামরিক সংঘাত কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে তার অনেক সম্ভাব্য পরিস্থিতি রয়েছে। সবচেয়ে সম্ভাব্য হলো, রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে আসবে না। এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিও হবে না।

সর্বোপরি, এতে হয় ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করবে; যা তারা মেনে নিতে পারবে না অথবা ক্রিমিয়াসহ দখলকৃত সমস্ত অঞ্চল ছেড়ে দেবে রাশিয়া; যা পুতিন করবেন না।

এর অর্থ হলো দুই পক্ষই লড়াই চালিয়ে যাবে অথবা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আজীবন শীতল যুদ্ধে জড়িয়ে থাকবে মস্কো-কিয়েভ। এই পরিস্থিতি কেবল ইউক্রেন এবং রাশিয়ার ওপর খরচ চাপিয়ে দেবে না, কঠিন সঙ্কটে পড়বে ইউরোপও।

রাশিয়া এখন ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং প্লেন তৈরি করছে। গত মাসে ক্রেমলিনের বাজেট ঘাটতি ২৫ বিলিয়ন বেড়েছে। এর প্রভাব শিগিগিরই পড়বে সাধারণ রাশিয়ানদের ওপর।  

সত্যি বলতে গেলে মিরাকল না ঘটলে, এ যুদ্ধ চলতেই থাকবে। ব্লুবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের কৌশলবিদ টিম অ্যাশ বলেন, ‘রাশিয়ার অর্থনীতি স্থবিরতা বা পতনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।’

গত এক বছরে ইউক্রেন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। হতাহতের পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামো গুড়িয়ে দিচ্ছে পুতিন বাহিনী। ফলে শিগগিরই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা খাবে ইউক্রেনবাসী।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যও এই ব্যথা কিছুটা ভাগ করে নেবে। ইতোমধ্যে তাদের রাশিয়ান গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। যদিও আগামী শীতের জন্য গ্যাসের দাম গত বছরের সর্বোচ্চ থেকে কমেছে, তবুও তা দুই বছর আগের তুলনায় চারগুণ বেশি।

যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। শিল্পভিত্তিক প্রতিযোগিতা তলানিতে ঠেকেছে। রাশিয়ান তেল পরিহার করে ইতোমধ্যে ইউরোপ অপরিশোধিত আমদানির জন্য বেশি অর্থ প্রদান করছে, যেখানে চীন এবং ভারত রুশ পণ্য কিনছে বিশেষ ছাড়ে!

অবস্থা আরও খারাপের দিকেই যাচ্ছে। কারণ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ইইউ।

 

পুতিন না থাকলে যা ঘটবে

বড় প্রশ্ন হলো পুতিন মারা গেলে বা ক্ষমতাচ্যুত হলে কী ঘটবে। ফরাসি থিঙ্ক-ট্যাঙ্কফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ব্রুনো টেরট্রাইস এ অবস্থায় চারটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম জার্মানির মতোই রাশিয়ায় গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে; উত্তর কোরিয়ার মতো বিশ্বের বাকি অংশ থেকে রাশিয়া নিজেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আবিষ্কার করবে; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে, দখলকৃত অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেবে রাশিয়া; অথবা ভেঙে যাবে রাশিয়া।

টেরট্রাইসমনে করেন, সবচেয়ে আশাবাদী ফলাফল হবে গণতান্ত্রিক উত্তরণ। যদিও এর সম্ভাবনা একেবারে কম। কারণ আমেরিকা এবং তার মিত্ররা রাশিয়া দখল করবে না বা কাউকে দখল নিতে সাহায্য করবে না; যেমনটা তারা ১৯৪৫ সালের পর পশ্চিম জার্মানিতে করেছিল।

অন্য সুযোগগুলোও আলো দেখাচ্ছে। সাবেক পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিএখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য। তিনি বলেন, ‘ক্রিমিয়ান যুদ্ধ, রুশো-জাপানি যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের মতো সামরিক পরাজয়ের পরই রাশিয়া নিজেকে সংস্কার করবে।’

কেউ কেউ আশা করে যে রাশিয়া তার নিজস্ব চেষ্টায় গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে। ঠিক যেমন তথাকথিত ‘রঙিন বিপ্লব’এর পর ইউক্রেন এবং জর্জিয়ার মতো সাবেক সোভিয়েত রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। যাইহোক, ক্রেমলিনের পক্ষে এমনটা করে ওঠা অসম্ভবই মনে হচ্ছে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, ইউরোপের প্রতি কম আক্রমনাত্মক কেউ স্বৈরশাসক পুতিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। নতুন স্বৈরশাসক হয়তো নতুন করে রাশিয়াকে সাজাবে।

 

অস্ত্র ও ভিক্ষা

শেষ দৃশ্যে ইউরোপ এবং আমেরিকা মিলনে আগ্রহী হবে; বিশেষ করে যদি তারা রাশিয়াকে চীনের কক্ষপথ থেকে বের করে আনার উপায় খুঁজে পায়। যদিও ইউক্রেনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির জন্য অনেক অপেক্ষা করতে হবে রশিয়াকে।

ইইউ এবং যুক্তরাজ্য জ্বালানির বিকল্প উত্সগুলোকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করলেও, শিগগিরই রুশ গ্যাস থেকে নির্ভরশীলতা বের হতে পারবে না ইউরোপ। আর যদি এমনটা ঘটে তবে বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি সংস্থা বা ভোক্তা পণ্য নির্মাতাদের ব্যবসা করার জন্য একটি আকর্ষণীয় জায়গা থাকবে না রাশিয়া।

একটি কম আক্রমনাত্মক রাশিয়া এখনও বড় হুমকি হয়ে ওঠার যোগ্যতা রাখে। ইউক্রেনে যদি রুশ বাহিনী কোণঠাসাহয়ে পড়ে, তবুও তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে।

পুতিনের হুমকি অনেক পরে টের পেয়েছে ইউরোপ। জার্মানি এবং ফ্রান্স এখন অনেক বড় প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিকল্পনা করছে,অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও উচ্চ ব্যয় কমাতে যুদ্ধ করছে।

এ ছাড়া চীনের চ্যালেঞ্জের দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে আগ্রহীযুক্তরাষ্ট্র। আর ইউরোপ আগামী কয়েক বছর ধরে নিজের সুরক্ষার জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে থাকবে।

ইউক্রেন পুনর্গঠনেও ব্যাপক খরচ আছে।বিশ্বব্যাংক এখন অনুমান করছে যে৫০০ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে এ কাজে।

ইউক্রেনে পুতিন বিজয়ী হওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করলে এ খরচ অবশ্য কিছুই না। সেক্ষেত্রে ইউরোপ এখন চিন্তায় থাকবে কীভাবে পুতিনের আগ্রাসন থেকে বাল্টিক রাষ্ট্র ও পোল্যান্ডকে রক্ষা করা যায়। তবুও এক বছরের যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্বল হয়ে পড়া রাশিয়া একটি সমস্যা হয়ে থাকবে ইউরোপের জন্য। রয়টার্স অবলম্বনে

/এসপি/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম