ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণবিষয়ক মার্কিন সরকারি সংস্থা ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের (ইউএসসিআইআরএফ) একটি প্রতিনিধি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার, প্রতিনিধি দলটির ভারতের উদ্দেশে রওনা করার কথা ছিল। তবে এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনে নিয়োজিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই খবর জানিয়েছে।
ইউএস কমিশনের বরাতে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ওবং নয়াদিল্লিতে নিয়োজিত মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সফরটির পরিকল্পনা চলছিল। তবে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ভিসা দেয়নি ভারত।
এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ারম্যান রবার্ট জর্জ বলেন, ‘ভিসা দিতে ভারত সরকারের অস্বীকৃতিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। বহুত্ববাদী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে ভারতের উচিত ছিল আমাদের ওপর আস্থা রাখা।’
রবার্ট জর্জ জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাতের কারণে সমালোচনার তুঙ্গে থাকা দেশ পাকিস্তান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রতিনিধিরা যেতে পারেন। আর স্বচ্ছতা প্রশ্নে এসব দেশ থেকে ভারতের অবস্থান আরও ভালো হওয়ার ব্যাপারে যে কেউ আশা করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইউএসসিআইআরএফ-এর ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছিল যে ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাত্রা আগের তিন বছরে বেড়েছে। বহুত্ববাদী, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক দেশ ভারত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হিমশিম খাচ্ছে বলে সে সময় সতর্ক করা হয়েছিল।
মুসলিম, খ্রিস্টান ও শিখ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও উসকানির ঘটনা বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এছাড়া অসংখ্য সহিংস হামলা এবং হিন্দু জাতীয়বাদীদের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনাও তুলে ধরা হয় সেই প্রতিবেদনে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/








