যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরায়েল সফরের দিনে সহিংস হয়ে ওঠা পূর্ব জেরুজালেম ও তেল আবিবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার জাফফা বন্দর এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ছুরিকাঘাতে এক মার্কিন পর্যটক নিহত এবং অন্তত ৯ জন আহত হন। একইদিনে বিচ্ছিন্নভাবে পূর্ব জেরুজালেম ও তেল আবিবে ছুরিকাঘাতের চেষ্টার অভিযোগে চার ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্মিত ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়ি ও ভবনগুলোকে ইসরায়েল উদ্বেগজনক হারে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেল আবিবের মেয়র রন হুলদাই দাবি করেন, ‘হামলাকারী নির্বিচারে লোকজনকে ছুরিকাঘাত করেছে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে আটকে ফেলেন এবং গুলি করে হত্যা করেন।’
এরইমধ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত মার্কিন নাগরিককে শনাক্ত করে তার নাম টেইলর অ্যালেন ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হামলার ঘটনারও নিন্দা জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাস্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি যে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। উত্তেজনা কমাতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে আমরা সব পক্ষকে ক্রমাগত উৎসাহ যুগিয়ে যাব।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, দুইদিনের সফরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েল পৌঁছান। পূর্ব জেরুজালেম ও তেল আবিবে যখন সহিংসতা চলছিল তখন তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বুধবার, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তার আলাদা করে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, ‘মঙ্গলবার সকালের দিকে জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে ৫০ বছরের কাছাকাছি বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারী ব্যাগ থেকে ছুরি বের করেন এবং টহলরত ইসরায়েলি বর্ডার পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করেন।’
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা মান-এর খবরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আল-ওয়াদ সড়কে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে বেশ কয়েকবার গুলি করেছেন। তার শরীর থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করলেও স্থানীয়দের ওবং চিকিৎসকদের তার আশেপাশে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না।
পূর্ব জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনির গুলিতে দুই ইসরায়েলি পুলিশ আহত হন। পরে তাকে হত্যা করা হয়। আর চতুর্থ ফিলিস্তিনি মৃত্যু হয়েছে তেল আবিবের কাছে পেতাহ তিকবা এলাকায়। ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, ওই ফিলিস্তিনি এক ইসরায়েলিকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকেই দখলকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে সহিংসতা বেড়েছে। অক্টোবর থেকে সর্বশেষ সহিংসতার আগ পর্যন্ত ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি ও ২৮ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন হামলার ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিক, এক সুদানি এবং এক ইরিত্রিয়ান নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে, এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্মিত ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়ি ও ভবনগুলোকে ইসরায়েল উদ্বেগজনক হারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ২০১৫ সালজুড়ে যতগুলো ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে তার তুলনায় চলতি বছরের এ পর্যন্ত ভবন ধ্বংসের সংখ্যা আরও বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক দাতাদের আংশিক সহায়তায় নির্মিত ১২১টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ২০১৫ সালে ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংসের সংখ্যা ছিল ১০৮। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, ডন
/এফইউ/বিএ/








