মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য এবার সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করলেন দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা উচিত বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তার ঘোর বিরোধিতা করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাতে এক টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে অন্য তিন প্রার্থী এক জোট হয়ে ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবের নিন্দা জানান।
প্রার্থিতার দৌড়ে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প অনেক বেশি এগিয়ে যাওয়ায় তাকে ঠেকাতে অন্য প্রার্থিতা প্রত্যাশীরা রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছেন। ট্রাম্প তাদের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। আগেরবারের টেলিভিশন বিতর্কটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাশীরা একে অপরের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ দেখালেও বৃহস্পতিবার রাতের বিতর্কটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তাদের নীতিমালা কী হবে তার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তবে তার মধ্যেও ইসলামবিদ্বেষ প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্য প্রার্থিতা প্রত্যাশীদের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে পড়ে।
ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে উল্লেখ করে ট্রাম্প সম্প্রতি যে মন্তব্যটি করেছেন তার বিরোধিতা করে রিপাবলিকান নেতা মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো মন্তব্য করতে পারেন না। এর পরিণাম পোহাতে হয়।’
এদিকে নিজের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক শুদ্ধতায় বিশ্বাসী নন।
জবাবে রুবিও বলেন, ‘আমিও রাজনৈতিক শুদ্ধতার পক্ষপাতী নই, ব্যক্তিগতভাবে শুদ্ধ হওয়ার পক্ষপাতী।’
বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক নতুন করে শুরু হওয়ার প্রসঙ্গটিও প্রাধান্য পায়। রুবিও মনে করেন, কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এখনই সম্পর্কোন্নয়ন করা ঠিক নয়। তার মতে, সম্পর্কোন্নয়নের আগে কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পোর্কন্নয়নের বিরোধী নন বলে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দেওয়া শর্তগুলো আরও ভালো হওয়া উচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা নিয়ে ওবামা-হিলারি নীতিকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কিউবান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক টেড ক্রুজ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতার দৌড়ে এখন পর্যন্ত ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার চারটি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত বাছাই পর্বে ট্রাম্প আরও তিনটি রাজ্যে (মিশিগান, মিসিসিপি ও হাওয়াই) জিতেছেন। একইদিন টেড ক্রুজ শুধুমাত্র আইডাহোতে জিতেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রাইমারি ও ককাস নামের দুইটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সেখানে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রাইমারি হচ্ছে প্রথাগত নির্বাচন, যেখানে দিনব্যাপী গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর ককাস হচ্ছে দলের নিবন্ধিত ভোটার ও কর্মীদের সভা, যা পূর্বনির্ধারিত দিন ও ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। কোনও কোনও অঙ্গরাজ্যে শুধু প্রাইমারি নির্বাচন হয়, আবার কোনও রাজ্যে শুধু ককাস নির্বাচন হয়। কোনও রাজ্যে প্রাইমারি ও ককাস দুটিই হয়। এবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ১৪ জুন। প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচন সাধারণত সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ার পরিবর্তে তারা নির্ধারণ করেন যে, প্রতিটি দলের কনভেনশনে দলের কোন প্রার্থী কতজন ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলেন। চূড়ান্ত দলীয় কনভেনশনে ওই ডেলিগেটদের ভোটেই চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








