রুশ ভূখণ্ডে দখলকৃত অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। শনিবার (১৭ আগস্ট) এই দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘কুরস্কে আমাদের বাহিনীর অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে বলে সেনাপ্রধান সিরস্কি জানিয়েছেন। আমাদের অগ্রগতি এখনও অব্যাহত আছে।’
৬ আগস্ট রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় ইউক্রেন। প্রায় আড়াই বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের পর এটিই তাদের প্রথমবার রুশ ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ায় বহিঃশত্রুর সবচেয়ে বড় আক্রমণের ঘটনা।
সিম নদীর ওপর রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ধ্বংস করার পর জেলেনস্কির সর্বশেষ বার্তা এলো। সেনাবাহিনীর কাছে রসদ সরবরাহ করতে সেতুটি ব্যবহার করত ক্রেমলিন।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের আটক করার জন্য আমাদের সব সেনা ও কমান্ডারকে ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের জন্যই রুশ সেনাদের হাতে আটক ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিকদের মুক্তি সন্নিকটে।’
কুরস্ক অভিযানকে মস্কো উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, পশ্চিমাদের মদদেই এই হামলা করেছে কিয়েভ। তারা এর ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
কুরস্কে ৩টি বসতি ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখলমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এছাড়া দেশের আরও ভেতরে প্রবেশে চেষ্টারত ‘ভ্রাম্যমাণ শত্রুদের’ সন্ধান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
এদিকে, কিয়েভের পক্ষ থেকে কুরস্কে ৮০টির বেশি বসতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
কুরস্কে অনুপ্রবেশের পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এখন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী অনেকগুলো গ্রাম তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি মস্কোর।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, খারকিভসহ অন্তত ৪টি অঞ্চলে শনিবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি বলেছেন, টোরেস্ক ও পোকরভস্ক শহরের কাছাকাছি কয়েক ডজন রুশ হামলা হয়েছে।
দেশটির পুর্ব সীমান্তে রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত প্রধান সড়কের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপুর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি হচ্ছে পোকরভস্ক।
সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে জেলেনস্কি বলেন, ‘দখলদারদের নির্মূল করতে আমদের সেনাবাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’








