গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে বন্দি ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাফা এলাকার এক সুড়ঙ্গ থেকে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী রবিবার তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘জিম্মিদের মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ৭ অক্টোবর বন্দি করা হয়েছিল। গাজা উপত্যকায় হামাস সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যা করেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা করে হামাস। এই হামলায় অন্তত ১২ শ’ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে আসছে।
হামাসের আক্রমণের জবাবে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী ছয় জিম্মির নাম কারমেল গ্যাট, এডেন ইয়েরুশালমি, হেরশ গোল্ডবার্গ-পোলিন, আলেক্সান্ডার লোবানোভ, আলমগ সারুসি ও মাস্টার সার্জেন্ট ওরি ডানিনো।
মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ‘জিম্মিদের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার কিছুক্ষণ আগে হামাস সন্ত্রাসীরা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
মার্কিন নাগরিক গোল্ডবার্গ-পোলিনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘এই খবরে আমি বিপর্যস্ত ও ক্ষুব্ধ।’
জিম্মিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জনসম্মুখে এসে বন্দিদের পরিত্যাগ করার দায় নিতে হবে।
‘জিম্মিদের পরিবার পরিষদ’ তাদের এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হামাসের বন্দিদশায় প্রায় ১১ মাস অত্যাচার, নির্যাতন ও অনাহারের কষ্ট ভোগ করার পর গত কয়েকদিনের মধ্যে তাদের ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর করতে বিলম্ব করার কারণেই জিম্মিদের প্রাণহানি হয়েছে।’
রবিবার দেশে অসহযোগ পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। জিম্মি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত করতে দেশবাসীকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ বলেছেন, ‘নিরাপদের জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’








