জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইসরায়েলের ‘অস্পষ্ট অবজ্ঞা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বের দেশগুলোকে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় প্রায় এক বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান এখন অগ্রাধিকার বলে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) উল্লেখ করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় ৪১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণে এক হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এই সংঘাত পশ্চিম তীরে সহিংসতার মাত্রাও বাড়িয়ে তুলেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক জেনেভায় পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে বলেন, এই যুদ্ধের অবসান ও একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাত প্রতিহত করা জরুরি অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এ ধরনের স্পষ্ট অবজ্ঞা মেনে নেওয়া দেশগুলোর উচিত না।
তিনি জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতের জুলাই মাসে দেওয়া এক মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই সমস্যার একটি সার্বিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তবে ইসরায়েল এই মতামতকে একতরফা দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভলকার তুর্ক তাঁর চার বছরের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে এই বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংকট ও বিশাল চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। অধিবেশনে সুদান, আফগানিস্তান ও ইউক্রেনের সংকট নিয়েও আলোচনা হবে।
মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করে বলেন, আমরা চলমান বিপজ্জনক পথ অনুসরণ করতে পারি, অথবা এক বিশৃঙ্খল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।
এছাড়া, তুর্ক মৃত্যুদণ্ডের সাজা ও আফগানিস্তানে নতুন নৈতিকতার আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিঙ্গ সমতার ব্যাপারে ‘বিপজ্জনক পশ্চাদগমন’-এর কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে, নির্বাচনি সময়ে রাজনীতিবিদদের দ্বারা অভিবাসী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
চীন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তুর্ক বলেন, তিনি সংলাপ খোলা রাখার ও মতবিরোধ সত্ত্বেও খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।









