নরওয়ের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে রাশিয়া নাশকতা চালাতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিলস আন্ড্রেয়াস স্টেনসোয়েনেস। ইউক্রেনের সমর্থনকারী পশ্চিমা দেশগুলোকে মোকাবিলায় পুতিনের আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্টেনসোয়েনেস বলেছেন, ‘ঝুঁকির মাত্রা আগের থেকে বেড়েছে। আমরা নাশকতার আশঙ্কা করছি। ইউরোপজুড়ে রুশ নাশকতা বৃদ্ধি পাওয়া তাদের হুমকির মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
অবশ্য, এসব অভিযোগকে পশ্চিমাদের দেখানো জুজুর ভয় বলে অস্বীকার করেছে রাশিয়া। আর অসলোতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে নাশকতার পর সাগরে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের নিরাপত্তায় ন্যাটোবাহিনীর সমর্থনে নৌবাহিনী মোতায়েন করে নরওয়ে।
নরওয়ের সাগরতলে গ্যাস পাইপলাইনের অবকাঠামো প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত। এছাড়া তাদের ৯০টির অধিক তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। এই বিশাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই অত্যন্ত কঠিন।
নরওয়ের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, গত বছর কোনও নাশকতামূলক কাজ চালানোকে রাশিয়া সমীচীন মনে করেনি। তবে এবছর তাদের পেট্রোলিয়াম খাতে হামলা হতে পারে।
ইউরোপের বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী ও গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেলের রফতানিকারক দেশ হচ্ছে নরওয়ে।
রুশ হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি স্টেনসোয়েনেস। তিনি কেবল বলেছেন, পুতিনের দেশ ধীরে ধীরে পশ্চিমাদের জন্য এক ‘বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে। ফলে, বেপরোয়া কাজের পরিণাম নিয়ে তাদের অতোটা দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয়। তবে ন্যাটো জোটের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইবে মস্কো।
এদিকে নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণে তদন্তের দায়িত্বে থাকা জার্মানির বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ করেছে রাশিয়া। বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সঞ্চালনকারী দু’টি পাইপলাইন এই বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পর হওয়া এই বিস্ফোরণের দায় কেউ স্বীকার করেনি। আর এই বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো।
এদিকে, পোল্যান্ডে অবস্থানরত এক ইউক্রেনীয় ডাইভিং প্রশিক্ষকের ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে জার্মানি। তার বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। আর এ বিষয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিয়েভ।









