হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ নিরসনে গাজা উপত্যকা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধই একমাত্র উপায়। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) এই মত দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সাইপ্রাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমধ্যসাগরীয় (মেডিটেরেনিয়ান) দেশের সংগঠন ‘মেড নাইন’ এর সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাচ্ছি না। এটি বরং ওই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) যেকোনও রকম অস্থিতিশীলতা বন্ধের আহ্বান।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এর জবাবে ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করলে গাজা যুদ্ধের শুরু হয়। তখন থেকেই হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রায় নিয়মিত ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
সম্প্রতি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি ও বেক্কা উপত্যকায় ইসরায়েল বোমাবর্ষণ শুরু করলে সংঘর্ষের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। ব্যাপক হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃস্থানীয় অধিকাংশ সদস্য প্রাণ হারান। হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হচ্ছেন।
ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘আমরা আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি। গাজা ও লেবানন দুজায়গাতেই এটি নিশ্চিত করতে হবে। চলমান নৃশংসতার শিকার সবাইকে রক্ষা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা রোধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এইসব যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আহ্বান জানাচ্ছে ফ্রান্স। কারণ, সহিংসতা অবসানের এটিই একমাত্র উপায়।’
গত শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, গাজায় সংঘাত বন্ধে অস্ত্রের চালান থামানো উচিত। এটি মূলত রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার প্রথম ধাপ।
এর জবাবে পরদিনই নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হবে ইরান ও তার সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
ইসরায়েলে ফ্রান্স খুব বেশি অস্ত্র পাঠায় নি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক অস্ত্র রফতানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলকে গত বছর তিন কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।








