ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালের নিচে থাকা বাংকারে হিজবুল্লাহ শত শত কোটি ডলার নগদ অর্থ ও স্বর্ণ মজুত করেছে। যদিও তারা ওই হাসপাতাল ভবনে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
দাহিয়ে এলাকার সাহেল হাসপাতাল দ্রুত খালি করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের পরিচালক ফাদি আলামে ইসরায়েলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের করা অভিযোগ সত্য নয়।
ইসরায়েল তাদের এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। বরং একটি এনিমেটেড গ্রাফিক প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, হাসপাতালের নিচে একটি বাংকার রয়েছে যা অতীতে হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহকে লুকিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল। তারা লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর চুরি করা অর্থ বাজেয়াপ্ত করতে।
এরপরই দাহিয়ে এলাকাবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় যে, ভবনগুলোতে আঘাত হানার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এলাকাবাসীদের অন্তত ৫০০ মিটার দূরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এক ঘণ্টা পর শুরু হয় বিমান হামলা। এর ফলে বৈরুত এলাকাজুড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রফিক হারিরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রবেশমুখের সামনেই একটি হামলা ঘটে। এটি লেবাননের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল। এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বিস্ফোরণে হাসপাতালের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।
তবে হামলার পরও হাসপাতালের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল বলে হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে।
হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের এই অভিযোগের পর বৈরুত এলাকাজুড়ে হাসপাতালগুলোতে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গাজায়ও এর আগে এমন অভিযোগ তুলেছিল ইসরায়েল। তারা দাবি করেছিল, হামাস মেডিক্যাল ভবনগুলো থেকে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি লেবাননের সবচেয়ে বড় দুটি হাসপাতালের ওপর হামলা এবং লেবাননের স্বাস্থ্য খাতকে প্রতিদিন ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু করার অংশ।
গত এক বছরের সংঘর্ষে ইসরায়েল অন্তত ১১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মীকে হত্যা করেছে।









