চীন ও জাপানের ঐতিহাসিক বিরোধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন চান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের ইতিহাসের পাশাপাশি তাইওয়ানের মত সংবেদনশীল ইস্যু যথাযথভাবে সামলে নেবে জাপান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স শনিবার (১৬ নভেম্বর) এ খবর জানিয়েছে।
পেরুর লিমায় এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) ফোরাম সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শি জিনপিং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার সুরক্ষা, স্থিতিশীল উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান। তবে চীনে জাপানি নাগরিকদের ওপর সাম্প্রতিক ছুরি হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
জাপানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে চীনে বন্দী জাপানি নাগরিকদের মুক্তি দাবিও করেছেন ইশিবা।
গত অক্টোবরে ইশিবা দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক।
এর আগে শুক্রবার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বৈঠক করেছেন। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ত্রিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চান।
সম্প্রতি চীন ও জাপানের কর্মকর্তারা একাধিকবার বৈঠক আয়োজন করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ লেগেই রয়েছে। ভূখণ্ডের অধিকার, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিশোধিত পানি সাগরে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানি সামুদ্রিক খাদ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।
এছাড়া, চীনে জাপানবিরোধী মনোভাবও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি চীনের শেনঝেনে এক ১০ বছর বয়সী জাপানি স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। জুনে এক জাপানি নারী ও তার সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক চীনা নারী।
উল্লেখ্য, বর্তমান বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করার একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে অনেক বাধা রয়ে গেছে।








