জর্জিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) অভিযোগ তুলেছেন দেশটির নাগরিক অধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ন্যায়পাল লেভান ইয়োসেলিয়ানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছয় দিন ধরে চলা বিক্ষোভে আটক হয়েছিলেন বহু মানুষ। তারা অত্যন্ত কঠোর আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইয়োসেলিয়ানি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ন্যায়পাল বলেছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের মুখমণ্ডল, চোখ ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ফলে ধারণা করা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংস পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
তিনি আরও বলেন, আঘাতের স্থান, প্রকৃতি ও মাত্রা দেখে মনে হয়েছে, শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে নৃশংসতা চালিয়েছে পুলিশ। এগুলো নির্যাতনের শামিল।
সরকার বা ক্ষমতাসীন দল জর্জিয়ান ড্রিম পার্টির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পায়নি রয়টার্স। তবে, এর আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দল জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি ঘোষণা করে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইইউ থেকে কোনও অর্থায়ন নেবে না তারা। এছাড়া ইইউতে যোগদানের আলোচনা আপাতত স্থগিত থাকবে। এর পর থেকেই দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ৩৭ লাখ জনসংখ্যার দেশটি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমাপন্থি নীতি অনুসরণ করলেও সমালোচকদের দাবি, সরকার এখন রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে।
মঙ্গলবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রাস্তায় সমবেত হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রী কোবাখিদজে অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ২০১৪ সালে হওয়া ইউক্রেনের ময়দান বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করছেন। ওই বিপ্লবে ইউক্রেনের রুশপন্থি সরকারের পতন ঘটে। তবে বিক্ষোভকারীদের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
কোবাখিদজে আরও দাবি করেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে একটি পক্ষ ও তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সালোমে জুরাবিচভিলি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে বলেছেন, তাদের একমাত্র দাবি হচ্ছে পুনঃনির্বাচনের আয়োজন করা।
মঙ্গলবার জর্জিয়ার সাংবিধানিক আদালত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের জন্য দায়ের করা একটি মামলার শুনানি খারিজ করে দিয়েছে। নির্বাচনে প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি বিজয়ী হয়। তবে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীদলগুলো।
পশ্চিমের সঙ্গে জর্জিয়ার সম্পর্কের অবনতি ও রুশ-অণুপ্রানিত কঠোর আইন পাসের ধারাবাহিকতায় দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সমালোচকরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বলছে, তারা কেবল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।








