ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির মামলায় মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রথমবার সাক্ষ্য দেবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই মামলার অভিযোগগুলো ইসরায়েলি জনগণকে বিভক্ত করেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অভিযোগগুলো কী?
২০১৯ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। ২০২০ সালে মামলার বিচার শুরু হয় ও তিনটি পৃথক ফৌজদারি মামলার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
কেস ৪০০০
এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে নেতানিয়াহু বেজেক টেলিকম ইসরায়েলকে (বিইজেডকিউ ডট টিএ) প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৫০ কোটি ডলার) মূল্যের নিয়ন্ত্রক সুবিধা প্রদান করেছিলেন। এর বিনিময়ে, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান শাউল এলোভিচ পরিচালিত একটি নিউজ ওয়েবসাইটে তিনি ও তার স্ত্রী সারার পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের প্রচেষ্টা নেন। এই মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কেস ১০০০
হলিউডের প্রযোজক ও ইসরায়েলি নাগরিক আর্নন মিলচান এবং অস্ট্রেলীয় ধনকুবের জেমস প্যাকার থেকে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী প্রায় ৭ লাখ শেকেল (২ দশমিক ১ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের উপহার গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপহারগুলোর মধ্যে শ্যাম্পেন ও সিগার ছিল। এর বিনিময়ে নেতানিয়াহু মিলচানের ব্যবসায়িক স্বার্থে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মিলচান ও প্যাকার কোনও অভিযোগের মুখোমুখি হননি।
কেস ২০০০
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ইসরায়েলের ইয়েডিয়থ অ্যাথ্রোনোথ পত্রিকার মালিক আর্নন মোজেসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, পত্রিকায় নেতানিয়াহুর পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের শর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকার ব্যবসা কমিয়ে আনতে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্রুত রায় আসবে কি?
যদি নেতানিয়াহু কোনও আপস চুক্তি না করেন, তবে বিচারকরা রায় দিতে আরও অনেক মাস সময় নিতে পারেন। ফলে দ্রুত রায় আসার সম্ভাবনা কম।
তিনি কীভাবে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন?
ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় না। এমনকি আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীনও তিনি তার পদে থাকতে পারেন।
তার কী কারাদণ্ড হতে পারে?
ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা ও এরপর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের কারণে নেতানিয়াহুর মামলার গুরুত্ব কমে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধের আগে, নেতানিয়াহুর অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছিল।
২০২২ সালে নির্বাচনে জয়ের পর নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকার আদালতের ক্ষমতা সীমিত করতে বিচার বিভাগের সংস্কার শুরু করে। এতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। নেতানিয়াহু এই সংস্কার ও তার মামলার মধ্যে কোনও সম্পর্ক অস্বীকার করেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত কিছু বক্তব্য পুনরায় তুলে ধরেছেন।








