নারীর সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৫:০৯আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৬:৩৭

সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারার সঙ্গে গত সপ্তাহে এক নারীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবার তিনি এসব বিতর্কের জবাবে মুখ খুললেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। 

বিবিসির সাংবাদিক জেরেমি বোয়েনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেছেন, আমি ওই নারীকে বাধ্য করিনি। আমার সঙ্গে যেভাবে উপযুক্ত, আমি সেভাবে ছবি তুলতে চাই। এটা আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। 

বিতর্কের সূত্রপাত ১০ ডিসেম্বর লেয়া খেইরাল্লাহ নামের এক নারীর সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে। আল-শারার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেন ওই নারী। তবে ছবি তোলার আগে ওই যুবতীকে চুল ঢাকার ইঙ্গিত দেন আল-শারা। লেয়া সেটা মেনে নিয়ে নিজের পরনে থাকা হুডির মাথার আবরণ টেনে দিয়ে আল-শারা পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।

ঘটনার ভিডিও ক্লিপ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিদ্রোহীদের ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনার মধ্যে এই ঘটনাটি উদারপন্থি ও রক্ষণশীল উভয় মহলের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তুমুল তর্ক বিতর্ক চলছে।

উদারপন্থিরা মনে করছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সুন্নি ইসলামি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রধানের  অনুরোধ হতে পারে দেশটিতে ইসলামি শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার ইঙ্গিত । অন্যদিকে, কঠোর রক্ষণশীলরা এক যুবতীর সঙ্গে আল-শারার ছবি তোলা নিয়েই সমালোচনা করে আসছেন।

অবশ্য লেয়া খেইরাল্লাহ বলেছেন, তিনি আল-শারার অনুরোধে বিরক্ত হননি।

তিনি বলেছেন, এইচটিএস নেতা তাকে 'পিতৃসুলভ স্নেহের' ভঙ্গিতে অনুরোধ করেছিলেন। একজন নেতার নিজেকে তার পছন্দমতো উপস্থাপন করার অধিকার আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সিরিয়ার মতো ধর্মীয়ভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশের জনগণকে এক ছাতার নিচে আনার চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে বোঝা গেল।

সিরিয়ার বেশিরভাগ মানুষ সুন্নি মুসলিম। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন খ্রিষ্টান, আলাওয়ি, দ্রুজ ও ইসমাইলি সম্প্রদায়ের মানুষ। এদিকে আসাদ বিরোধীদের মধ্যেও রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ চায় ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র, আবার কেউ ইসলামিক আইনের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা।

২০১৭ সালে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি ইদলিব প্রদেশে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এইচটিএস কঠোর আচরণ ও পোশাকবিধি চালু করেছিল। তবে ব্যাপক সমালোচনার চাপে তারা এসব নিয়ম সম্প্রতি প্রত্যাহার করেছে।

ছবি তোলার সময় আল-শারার অনুরোধকে সহজভাবে দেখতে পারছেন না উদার বা অ-রক্ষণশীল মতাদর্শের মানুষরা। তাদের আশঙ্কা, এইচটিএসের শাসনে দেশটি আরও রক্ষণশীল নীতির দিকে যেতে পারে। যেমন সকল নারীর জন্য হিজাব পরিধান বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর'স অ্যারাবিক চ্যানেল ঘটনাটির প্রতিবেদনে শিরোনাম দেয়, 'সিরিয়া কি ইসলামি শাসনের দিকে এগোচ্ছে?'

আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন অনেকে। একজন সিরীয় সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন, জনগণ এক স্বৈরাচারীকে সরিয়ে আরেক প্রতিক্রিয়াশীল স্বৈরাচারীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে 'অতিকট্টরপন্থীদের' ক্ষমতায় আসা নিয়ে সতর্ক করেছেন। আবার 'একজন স্বাধীন নারীকে' রক্ষণশীল সাজে বাধ্য করার নিন্দা করেছেন অনেকে।

এদিকে এক যুবতীর পাশে দাঁড়িয়ে আল-শারার ছবি তোলার বিষয়টিতেই বিরক্ত কঠোর ইসলাম পন্থিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রথম থেকেই এর সমালোচনা করেছেন তারা। কয়েকজন কঠোরপন্থি ওই নারীকে 'মুতাবারিজাহ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের বিধি বহির্ভূত 'অশালীন পোশাক' পরিহিত বা মেকআপ করা নারীদের নেতিবাচকভাবে অভিহিত করতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়।

এই কঠোর পন্থিদের মধ্যে রয়েছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও প্রভাবশালী বিশ্লেষকগণ। তাদের মতামত সিরিয়া-কেন্দ্রিক রক্ষণশীল অনলাইন সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। তাদের বেশিরভাগই সিরিয়ায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে এইচটিএসের সদস্য ছিলেন।

এছাড়াও, আল-শারার সমালোচনাকারীদের মধ্যে কয়েকজন রক্ষণশীল আলেম রয়েছেন, যারা অতীতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় কারণে এইচটিএসের সমালোচনা করে দলত্যাগ করেছেন।

 

/এসকে/
সম্পর্কিত
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম