মার্কিন সরকারি কর্মী ছাঁটাই ও ব্যয় সংকোচনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনে এবং ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে সরকারি দক্ষতা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডোজে)। মার্কিন করদাতাদের অর্থ অপচয় রোধ করতে সংস্থাটি কাজ করছে বলে দাবি করেছেন মাস্ক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
মাস্ক বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় এবং ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণে ডুবে থাকা সরকারকে স্বস্তি দিতে কাজ করছে ডোজে। প্রাথমিকভাবে বার্ষিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্য সংশোধন করেন।
সংস্থাটির ভারিক্কি নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাপ থাকলেও এটি আসলে ঠিক সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় কংগ্রেসের অনুমোদনে। আর ডোজে গঠিত হয়েছে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে।
ওই আদেশনামা অনুযায়ী, সরকারের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আইটি খাতের উন্নয়ন ডোজের অন্যতম লক্ষ্য। তাদের কাজের সময়সীমা পরের বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত। মূলত প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের নিয়েই সংস্থাটির কর্মীবাহিনী গঠিত হয়েছে।
প্রথমে নিজের পদবি সম্পর্কে মাস্ক বলেছিলেন যে, তিনি মূলত একজন বহিরাগত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। তবে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে পরে জানানো হয়, বিশেষ সরকারি কর্মী হিসেবে বেতন ভাতা ছাড়াই কাজ করছেন এই ধনকুবের। সরকারের জন্য ১৩০ দিন বা এক বছরের কম সময় কাজ করা ব্যক্তিদের এই পদবি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে মার্কিন সরকার।
আমলাতন্ত্রকে সরকারের চতুর্থ অঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাস্ক বলেছেন, ট্রাম্পের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বাঁধা সৃষ্টি করছে আমলাতন্ত্র। তাদের শোষণের অবসান ঘটাতেই তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তবে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে আদর্শগত মতবিরোধের প্রেক্ষাপটেই মাস্ক ও তার সংস্থা কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সাবেক পরিচালক ও রিপাবলিকান সদস্য ডগলাস হোল্টজ-ইয়াকিন বলেছেন, তাদের (ট্রাম্প ও মাস্ক) পছন্দসই কাজ করছে, এমন সংস্থায় কিন্তু তারা হানা দেবে না। যেসব সংস্থার কাজ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত আপত্তি আছে, তাদের পিছনেই আদাজল খেয়ে নেমেছে ডোজে।
ডোজের মাধ্যমে নিয়মিত বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ স্থগিতের তথ্য প্রচার করা হয় তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে। তবে এত তোড়জোড় করেও এখন পর্যন্ত কতটা অর্থের সাশ্রয় হলো, সে বিষয়ে সার্বিক তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।









