যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় কুরস্কের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:২১আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:২৩

গত আগস্টে রুশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে কুরস্ক অঞ্চলে হামলা চালায় ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও বিদেশি শক্তি রুশ ভূখণ্ডে আগ্রাসন শুরু করে। নজিরবিহীন কুরস্ক অভিযান শুরু হওয়ার সাত মাসে ধীরে ধীরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর শেষ সদস্যদেরও নিজ ভূখণ্ড থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে রুশ সেনারা। তবে কুরস্কের অধিবাসীরা দ্রুতই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না।

সীমান্তের ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন রিয়ালস্ক নগরীর সর্বত্র দেখা যায় যুদ্ধের আঘাতের চিহ্ন। সেখানকার ঐতিহাসিক ভবন, জার আমলের অবকাঠামো, সংস্কৃতি কেন্দ্র ধুলোয় মিশিয়ে গেছে। এরকম এক ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে মেয়র সের্গেই কারনোসোভ রয়টার্সকে বলছিলেন, আমরা অবশ্যই শান্তি চাই। কিন্তু সেটা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই।

গত ২০ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় হামলায় কুরস্কের একটি ঐতিহাসিক সংস্কৃতি কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। ওই হামলায় ছয় জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়। রাশিয়ার অভিযোগ, মার্কিন হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই হামলা চালানো হয়।

কুরস্কে ইউক্রেনীয় অভিযান শুরুর পর থেকেই ধীরে হলেও তাদের বিতাড়ন করতে সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত ছিল রুশ সেনাবাহিনীর। বিগত কয়েক সপ্তাহে তাদের অগ্রযাত্রার গতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। পুরো বিষয়ের নিয়মিত প্রতিবেদন করার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিল আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স। খবর সংগ্রহ ও প্রচারে তাদের ওপর ক্রেমলিনের কোনও আপত্তি না থাকলেও রুশ বাহিনীর গতিবিধি ও ছবি প্রচার করতে নিষেধ করা হয়।

স্থানীয় অনেক বাসিন্দা বিশ্বাস করেন, কুরস্কে অতর্কিত হামলার কারণেই ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাত্রা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে মস্কো। তেমনই একজন হলেন ১৯৬৯ সালে চীন ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লিওনিড বোয়ারিনস্তেভ।

পুরো যুদ্ধের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করে তিনি বলেছেন, আমরা একবার জিতে গেলেই শান্তি ফিরে আসবে। এরপর কেউ আর আমাদের হামলা করার সাহস দেখাবে না।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই বোমা বিস্ফোরণ ও সতর্ক সংকেত যেন ইউক্রেনীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল। কুরস্কে অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানকার অধিবাসীদের জীবনধারাও প্রায় একই রূপ নেয়। এখন তাদের একটাই চাওয়া, পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

কুরস্ক থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রায় বিতাড়িত করে দিলেও সেখানে এখনও প্রায় প্রতিদিনই বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজে কেঁপে উঠছে লোকালয়। চলাচলের পথে পুঁতে রাখা মাইনের আতঙ্ক বিরাজ করে মানুষের মনে। বাজার করতে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে ভেসে আসে গুলির শব্দ।

রিয়ালস্ক শহরের সংগীত শিক্ষক রিম্মা এরোফেয়েভা বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের কৃপায় তারা এখনও বেঁচে আছেন। যুদ্ধের বিভীষিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, সতর্ক সংকেতে মানুষ এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তারা এখন আর এসবে প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত দেখায় না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

/এসকে/
সম্পর্কিত
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম