নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার হাল ধরলেন উদারপন্থি রাজনীতিবিদ লি জায়ে মিউং। বুধবার (৪ জুন) দেশটির নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা এবং তার দলের সেই প্রচেষ্টা ঠেকানোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মঙ্গলবারর নির্বাচনকে ‘জাজমেন্ট ডে’ (যেদিন সব পাপ-পূণ্যের হিসাব নেওয়া হয়) বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
পার্লামেন্টের বাইরে জয় উদ্যাপন বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্রোহের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের মানুষের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। দেশবাসীকে নিয়ে এই সাময়িক সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।
গত ডিসেম্বরে আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারি করেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইওল। তার ওই আদেশ অবশ্য ছয় ঘণ্টার বেশি বহাল রাখা যায়নি। তবে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গণে অস্থিরতা সামাল দেওয়া দিনকে দিন কঠিন হয়ে উঠছিল।
সামরিক আদেশ জারির কারণে অভিশংসিত হয়েছেন ইউন। তার বিরুদ্ধে এখন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চলছে।
লি জানিয়েছেন, দায়িত্বের প্রথম দিনেই তিনি দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেবেন, বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ছোট ব্যবসায়ীদের দুর্দশা নিয়ে কাজ করবেন।
তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমদানি শুল্ক নিয়ে আলোচনা, যেখানে হোয়াইট হাউজ দাবি করছে—এই শুল্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভোটের মধ্যে লি পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট। আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কিম মুন সু পেয়েছেন ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ। ১৯৯৭ সালের পর দেশটিতে গতকাল সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার ব্যালটে নিজের মত প্রকাশ করলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লি জায়ে মিউংকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্সি এবং কমান্ডার ইন চিফের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন ৬১ বছর বয়সী এই মানবাধিকার আইনজীবী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় সংক্ষিপ্ত একটি অভিষেক অনুষ্ঠানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।









