মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ মস্কো পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন এক রুশ কর্মকর্তা। বুধবার (৬ আগস্ট) তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির বিনিয়োগ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অবশ্য রাশিয়ায় ঠিক কার সঙ্গে উইটকফের বৈঠক হতে যাচ্ছে, সফর আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বলেছেন, রুশ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বুধবার সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন প্রতিনিধি। আর তার আগেরদিন দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিনের সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের সম্ভাবনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিল ক্রেমলিন।
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিন সম্মত না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, তাদের জ্বালানি তেলের ক্রেতা দেশের ওপরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মস্কোর বৃহত্তম ক্রেতার তালিকায় রয়েছে চীন ও ভারত।
চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে উইটকফের সফরের বিষয়ে অবগত করেন তিনি। এটিকে ইউক্রেন সংকট সমাধানে তার আরেক দফা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আপোষের সম্ভাবনা কম।
অস্ট্রিয়ার আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক গেরহার্ড ম্যাঙ্গট বলেন, রাশিয়া হয়ত যুদ্ধবিরতির কথা বলবে, কিন্তু সেটি হবে তাদের পুরোনো শর্তের আওতায়, যা গত দুই-তিন বছর ধরে তারা বলে আসছে। ওদিকে, ট্রাম্পও মুখ বাঁচাতে রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস এবং সম্ভবত ইউরেনিয়াম কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করার চাপে থাকবেন তিনি।
এদিকে, ট্রাম্পের হুমকিতে পুতিন খুব একটা গা করবেন না বলেই মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা। রয়টার্সকে তারা বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার জয়ের ধারা অব্যাহত আছে বলে বিশ্বাস করেন পুতিন। এছাড়া, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে পশ্চিমা চাপ সামলানোর পর নতুন দফা কোনও নিষেধাজ্ঞা তাদের বাড়তি ক্ষতি করবে বলেও তিনি মনে করেন না। তাই, অগ্রগতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ট্রাম্পকে চটানোর কোনও আকাঙ্ক্ষা পুতিনের নেই। তিনি বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার বিষয়ে আশাবাদী। তবে ইউক্রেনে তার যুদ্ধের লক্ষ্য সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আবাসন ব্যবসায়ী এবং ট্রাম্পের গলফ খেলার সঙ্গী স্টিভ উইটকফ কূটনৈতিক কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়াই চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দলভুক্ত হন। এপ্রিলে মস্কো সফরে তিনি একাই বৈঠকে বসেন পুতিন, ইউরি উশাকভ ও দমিত্রিয়েভের বিপরীতে—যা অনেকের কাছে তাকে অনভিজ্ঞ ও একাকী প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে।
উইটকফকে রাশিয়াপন্থী বলেও সমালোচনা করেছেন অনেক বিশ্লেষক। গত মার্চে মার্কিন সঞ্চালক টাকার কার্লসনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন দখল বা ইউরোপ জয়ের কোনও ইচ্ছা রাশিয়ার তরফে নেই। এমন ধারণাকে 'হাস্যকর' বলে উড়িয়ে দেন তিনি।








