গাজায় থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে একটি চুক্তি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সেনাপ্রধানের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থারটিন জানিয়েছে, চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। হামাস গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে তেল আবিবে কয়েক লাখ মানুষ গাজা যুদ্ধের অবসান ও হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
জিম্মি ও নিখোঁজদের পরিবার সংগঠন (হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম) জানিয়েছে, জামিরের বক্তব্য অধিকাংশ ইসরায়েলির দাবির প্রতিফলন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অবশিষ্ট ৫০ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে আনাএবং যুদ্ধের সমাপ্তি। অবশ্য জিম্মিদের মাত্র ২০ জন বেচে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংগঠনটি মঙ্গলবার আরেক দফা ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি প্রস্তাবে মধ্যস্থতা করেছিল মিসর ও কাতার। প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাস ৬০ দিনের একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে দুই দফায় প্রায় অর্ধেক জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা চলবে।
অবশ্য নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে আগে বলা হয়েছিল, সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া হলেই কেবল কোনও চুক্তি মানবে ইসরায়েল।
এদিকে, আলোচনা চলমান থাকলেও থেমে নেই ইসরায়েলি হামলা। শনিবার বিমান ও সাঁজোয়া যান (ট্যাংক) দিয়ে গাজার বিভিন্ন অংশে গোলাবর্ষণ চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য সম্প্রতি হামলার আওতা বৃদ্ধি করেছে নেতানিয়াহু সরকার।
হামাসকে পুরোপুরি দমনের অঙ্গীকার করে সামরিক অভিযানের মাত্রা বৃদ্ধি করেছেন নেতানিয়াহু। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা সিটি থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলের আশ্রয়শিবিরে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশের ভেতরেই অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার সমালোচনার মুখেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেননি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেনাপ্রধান জামির পূর্ণমাত্রার দখল অভিযান চালানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে জিম্মিদের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়বে এবং ক্লান্ত ইসরায়েলি সেনারা গাজায় বিপদে পড়তে পারে।








