ঠিক দুবছর আগে ইসরায়েল অনুপ্রবেশ করে হামলা চালিয়েছিল হামাস। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় হামাস নির্মূলের শিখণ্ডী খাড়া করে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন। আর প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে দুই বছরে ৬৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ওই হামলার দুবছর পূরণ হওয়াকে ঘিরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠনের প্রধানদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ভয়াবহতা ও সেই যন্ত্রণা আমরা কখনও ভুলব না। ওই ঘটনায় নিরীহ মানুষ, তাদের পরিবার এবং গোটা ইসরায়েলি জাতির ওপর ভয়াবহ অন্ধকার নেমে এসেছিল।
আমরা তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানাই। এখন সকল জিম্মির মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি হাতের নাগালে রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
হামাসের হামলার অবর্ণনীয় ভয়াবহতার দুই বছর পেরিয়েও ক্ষত এখনও তাজা রয়েছে। আমি আবার আহ্বান জানাচ্ছি—সব জিম্মিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জি মেলোনি
দুই বছর আগে হামাসের সদস্যরা হাজারো নিরস্ত্র ও নিরীহ ইসরায়েলি নারী, শিশু ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছিল। যা ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি।
হামাসের সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন সংকট সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া সেই সংকটকে আরও বাড়িয়েছে, যেখানে গাজার অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
আমাদের সবার কর্তব্য হলো—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থাপিত শান্তি পরিকল্পনাকে সফল করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
আজ আমরা স্মরণ করছি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের নৃশংস হামলা ঘটনা। সেটি ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ।
সেই দিনের পর থেকে অসংখ্য মানুষ এক দুঃস্বপ্নে বাস করছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অগ্রাধিকার অপরিবর্তিত—সব জিম্মির মুক্তি, গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং টেকসই শান্তির লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি, যা দুই রাষ্ট্র সমাধানের অগ্রসর হবে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস
আজ আমরা ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার আলোকে আলোচনায় অগ্রগতি ঘটছে। এ অবস্থায় সব পক্ষকে সংযমের পরিচয় দিতে হবে, যেন যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করে শান্তির ভবিষ্যৎ গড়া যায়।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন
আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে হামাস ইসরায়েলে এক ভয়াবহ হামলা চালায়। যা ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের উপর সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ।
এর পর থেকে সুইডেনের ইহুদিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—সুইডেনে ইহুদি বিদ্বেষের কোনও স্থান নেই। সুইডেনের ইহুদিরা গর্বের সঙ্গে চিহ্ন ধারণ করতে পারবেন, উপাসনালয়ে যেতে পারবেন, সন্তানদের ইহুদি স্কুলে পাঠাতে পারবেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।
হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বিবৃতি
জায়োনিস্ট শত্রুর (ইসরায়েল) মোকাবিলায় প্রতিরোধই একমাত্র পথ। তা অব্যাহত থাকবে সব উপায়ে।
ইসরায়েলি নাগরিক হিলদা ভেইস্টহাল
এটা এখনও তাজা ক্ষতের মতো। জিম্মিরা ঘরে ফেরেনি, বিশ্বাস করা কঠিন যে দুই বছর কেটে গেছে। আমি আশা করি নেতারা দ্রুত উদ্যোগ নেবেন এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে।
গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ দিব
দুই বছর ধরে আমরা আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে উদ্বাস্তু জীবনে আছি। আমরা আশা করছি, চলমান আলোচনাগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স








