ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ ঘটনার টেলিমেট্রি ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা অবিশ্বাস্যভাবে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে যে কৌশলগত ‘বাফার জোন’ বা দূরত্ব ছিল, তা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করত, এই অঞ্চলের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ ২০০০ কিলোমিটার। কিন্তু দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ট্র্যাকিং—যা উৎক্ষেপণস্থল থেকে প্রায় ৩৮০০ থেকে ৪০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—প্রমাণ করে যে সেই কারিগরি বাধাটি এখন আর নেই।
যদিও কারিগরি ত্রুটি এবং মার্কিন ইন্টারসেপশনের কারণে ওয়ারহেডগুলো ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে, তবুও সংগৃহীত টেলিমেট্রি প্রমাণ করে যে লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিনে পৌঁছানোর সক্ষমতা এখন আর কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তবতা।
কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পাল্লা বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ‘সিমোরগ’ নামক স্পেস লঞ্চ ভেহিকেল বা মহাকাশযান। কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর জন্য তৈরি উচ্চ-উচ্চতার এই প্রপালশন সিস্টেমকে এখন মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টোরিতে ব্যবহারের জন্য নতুনভাবে কনফিগার করা হয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল দূরত্বে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে কিছু সমস্যা থাকলেও, ‘দূরপাল্লার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির’ লক্ষ্যটি সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সিভিলিয়ান স্পেস প্রোগ্রাম এবং দূরপাল্লার সামরিক হামলার সক্ষমতার মধ্যবর্তী পার্থক্যটি ঘুচে গিয়ে এক দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ নিয়েছে।
প্রমাণিত এই সক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বিশেষ ‘ডিফেন্সিভ ডিগ্রেডেশন’ মিশনের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এই মিশনের লক্ষ্য হলো সেই সেন্সর নেটওয়ার্ক এবং রিলে স্টেশনগুলোকে অকেজো করে দেওয়া, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে পথ নির্দেশ করে।
তবে মূল লক্ষ্য এখনও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যেখানে অবরোধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। আসন্ন জি-৭ জরুরি অধিবেশনে ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলে ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স’ (আইএএমডি) ব্যবস্থা আপগ্রেড করার বিষয়ে আলোচনা হবে, যাতেকরে এই নতুন ও বাধাহীন হুমকি মোকাবিলা করা যায়।









