যুদ্ধে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্য, সংকটে শিশু-কিশোররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৬আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৬

মধ্যপ্রাচ্যে হওয়া যুদ্ধে নানাবিধ সংকটে জর্জরিত লাখ লাখ শিশু ও কিশোর। এর মধ্যে রয়েছে ইরানি কিশোরদের বাধ্যতামূলক সামরিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং লেবাননে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত। এছাড়া যুদ্ধের ময়দানে শিশু-কিশোরদের মৃত্যু।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে ৩৪০ এরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে।

ইরানে শিশু-কিশোরদের মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক আঘাত হানে ইরানের একটি স্কুলে। ওই হামলায় অন্তত ১৬০ শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান।

এদিকে, লেবাননে স্থল আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায়ও তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। এতে শিশু-কিশোরদের মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই অঞ্চলে ১২ লাখের বেশি শিশু বাস্তচ্যুতির শিকার হয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেন, “অঞ্চলটির শিশুরা মারাত্মক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের নিরাপদ রাখার জন্য যেসব ব্যবস্থা ও সেবা থাকার কথা, সেগুলোই আক্রমণের শিকার হচ্ছে।”

লেবাননে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুতি

ইরান যুদ্ধের একপর্যায়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযানের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। বাসিন্দাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

ইউনিসেফের ধারণা মতে, এ পর্যন্ত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ১১ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু রয়েছে প্রায় চার লাখ। বাস্তুচ্যুত হওয়া মোট সংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে বসবাস করছে, যার মধ্যে অনেকেই রাস্তায় ঘুমাচ্ছে।

আশ্রয় শিবিরে ফুটবল খেলছে আশ্রিত কিশোররা। ছবি: সংগৃীহত

বৈরুতের বিয়েল এলাকায় একটি অস্থায়ী শিবিরে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছেন ৫২ বছর বয়সী নিদাল আহমেদ। দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে থাকছেন তিনি। অস্থায়ী তাঁবুতে শুধু নিদালের পরিবার নয়, আরও শত শত পরিবার রয়েছেন। এটি নিদাল আহমেদের দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুতি। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে টাইরে তার বাড়ি একটি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। পরে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে তার ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় নাদিলের পরিবার। তবে, ইসরায়েলের নির্দেশে সেই বাড়িও তাদের খালি করতে হয়।

আট মাসের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিদাল বলেন, “বিকাল ৫টা বাজলেও আমরা এখনও কিছু খাইনি। শিশুদের মুখে শুধুমাত্র চা ও পাউরুটি দিতে পেরেছি। এতো ছোট শিশুর জন্য রুটি খাওয়া উপযুক্ত নয়। কিন্তু, আমরা আর কিই বা করতে পারি?”

মাসখানেক আগে বাস্তুচ্যুত হওয়া নিদাল আহমেদ সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো টাকা নেই। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করছেন, যারা অনিয়মিতভাবে আসে। আসলেও সংস্থাগুলো এক বেলার খাবার বিতরণ করে।

বাস্তুচ্যুত জীবনের পরিস্থিতিকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে নাদিল তিনি তার পরিবারের জন্য তৈরি করা তাঁবুটির দিকে আঙুল তুলে বলেন, “নীল ত্রিপলটি তড়িঘড়ি করে একটি কাঠের কাঠামোর ওপর টাঙানো হয়েছে এবং পাথর দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আমি এটাকে ঢাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, আমরা প্রতিদিন সকালেই ভিজে ঘুম থেকে উঠি।”

নিদাল যখন কথাগুলো বলছিলেন ওই সময় তার তিন বছরের ছেলে আহমদ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। নিদাল ছেলেকে দেখিয়ে বলেন, “সবশেষ সপ্তাহে মাত্র গত শুক্রবার একবার ছেলে গোসল করতে পেরেছে। তাও ৩০ মিনিট হেঁটে আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে। শিবিরে শ’খানেক পরিবারের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার রয়েছে। সেটি ব্যবহার করতে আধা ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া শৌচাগারে পানিও নেই।” 

বাস্তচ্যুতি শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলবে এমন সতর্কবার্তা গত মাসেই দিয়েছিলেন লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মারকোলোজি কোরসি। তিনি বলেন, “অবিরাম বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির চক্র তাদের মানসিক ক্ষতকে আরও গুরুতর করে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ক্ষতির হুমকি তৈরি করছে।”

বোমাবর্ষণ ও বাস্তচ্যুতি ইতোমধ্যে নিদালের শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিদাল বলেন, “যখন ইসরায়েলি জেটগুলো উড়ে যায় বা বৈরুত বোমাবর্ষণ করে, তখন আমার ছেলে দৌড়াতে শুরু করে। সে মনে করে একটি বোমা তার ওপর এসে পড়বে, তাই লুকানোর চেষ্টা করে।”

নিদাল নিজেও চরমভাবে ক্লান্ত। নিজের বাড়িতে বোমা হামলায় আহত হন তিনি। পাশাপাশি আহত হয় তার স্ত্রী ও ১৭ বছর বয়সী মেয়ে। তাদের টাইরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন এই লেবাননি। হাসপাতালের বিছানায় অচেতন অবস্থায় থাকা স্ত্রীর একটি ছবি দেখান নিদাল। তিনি বলেন, “তার খুলি ৩৩টি স্থানে ভেঙে গেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।”

শিশুদের দিকে তাকিয়ে নিদাল বলেন, “এখন তারা খেলাধুলায় মগ্ন। কিন্তু, তারা যখন তাঁবুতে ফিরে মাকে না দেখবে তখন জিজ্ঞাসা করতে থাকবে।”

ফিলিস্তিনে মৃত্যু, আহত ও শোক

পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ফিলিস্তিনে আগ্রাসন থামাচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাসের বেশি সময়ে অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় উদ্ধার পরিষেবাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ একটি চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

বৈরুতে বাড়িঘর ছেড়ে তাঁবুতে থাকা দুই কিশোরের হাতে ফুল। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ মাসের বোমাবর্ষণে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে এখনও গাজা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ইসরায়েলি বাহিনীর ২৩ মাসের হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘ এসব হামলাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। গতবছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছিল ইসরায়েলি হামলায়। সেভ দ্য চিলড্রেন’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষের দিকে গাজার ওপর ইসরায়েলি আক্রমণে নিহত শিশুদের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইরান যুদ্ধ গাজায় নতুন কোনও সামরিক ফ্রন্ট খুলেনি। তবুও এটি নিরাপত্তাহীনতাকে আরও গভীর করেছে এবং চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানগুলোকে তীব্র করেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে গাজায় চলাচলের সীমাবদ্ধতা বাড়িয়েছে। কিছু স্কুল বন্ধ হতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে গাজায় প্রবেশপথগুলো বন্ধ করা হয়েছিল, ফলে মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটেলার ও নিরাপত্তা বাহিনীর ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের সহিংসতা বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর তাদের হামলায় অন্তত তিনজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গত ১৫ মার্চ তামুন শহরে গুলি চালিয়ে দুই ছোট ফিলিস্তিনি ভাই ও তাদের পিতা-মাতাকে হত্যা করা হয়।

নিহতদের মধ্যে একজনের নাম মোহাম্মেদ, যার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। আরেক ভাই অথম্যানের বয়স ছিল সাত বছর। এই দুই ভাই ছিল প্রতিবন্ধী। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এই দু’জনের দুই ভাই বেঁচে গিয়েছিল। বেঁচে যাওয়া ১১ বছর বয়সী খালেদ বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার মা কান্না এবং বাবা প্রার্থনা করতেছিল।” তিনি আরও বলেন, “গুলি করার পর ইসরায়েলের সীমান্ত পুলিশ লাশগুলো টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা কুকুরগুলোকে মেরেছি।”

গাজা উপত্যকায় বাস্তচ্যুত শিশুরা পানি নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় চার শিশু নিহত হয়েছে। হামলাটি চালানো হয়েছিল গত ১ মার্চে, বেইত শেমেস শহরে।

ইরানের যুদ্ধের ময়দানে কিশোররা

যুদ্ধের ময়দানে শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। ১২ বছর থেকে তদূর্ধ্ব কিশোরদের চেকপয়েন্টে কাজ করাচ্ছে তারা। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। মার্চের শেষের দিকে একটি রিপোর্টে সংস্থাটি জানায়, আইআরজিসি ‘মাতৃভূমি রক্ষাকারী যোদ্ধা’ হিসেবে শিশুদের নিয়োগের একটি অভিযান পরিচালনা করছে।

গত ২৬ মার্চ আইআরজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, “হোমল্যান্ড ডিফেন্ডিং কমব্যাট্যান্টস ফর ইরান নামে একটি নাগরিক স্বেচ্ছাসেবী অভিযানটির সর্বনিম্ন বয়স ১২ বছর নির্ধারণ করেছে।”

গত জানুয়ারিতে তেহরানে একটি ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণকারী ইরানি মিলিশিয়া বাহিনীর এক কিশোর সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কভিত্তিক এইচআরডব্লিউ বলছে, “শিশুদের সামরিকভাবে নিয়োগ এবং ব্যবহার করা তাদের অধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের শামিল, বিশেষ করে যখন শিশুদের বয়স ১৫ বছরের নিচে থাকে।”

এইচআরডব্লিউ’র সহযোগী শিশু অধিকার পরিচালক বিল ভ্যান এসভেল্ড বলেছেন, “শিশুদের, বিশেষ করে ১২ বছর বয়সীদের সামরিক নিয়োগের জন্য লক্ষ্য করা কোনও কারণেই স্বীকৃত নয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টতই কিছু অতিরিক্ত জনশক্তির জন্য শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করছে।”

ইরানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১১ বছর বয়সী শিশু আলিরেজা জাফারি মারা গেছেন। ওই শিশুর মা সাদাফ মোনফারেদ বলেন, “আমার ছেলে বাসিজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চেকপয়েন্টে সাহায্য করছিল।” বাসিজ হল আইআরজিসির অধীনে থাকা একটি স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া।

ভ্যান এসভেল্ড বলেন, “এই নিন্দনীয় নীতিতে জড়িত কর্মকর্তারা শিশুদের গুরুতর ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতির ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। যেসব সিনিয়র নেতারা এটিকে বন্ধ করতে ব্যর্থ হন, তারা ইরানের শিশুদের যত্ন নেওয়ার দাবি করতে পারে না।”

স্কুলে হামলা ও শিক্ষার ক্ষতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি প্রাইমারি স্কুলে বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় নিহতদের বেশিরভাগের বয়স সাত থেকে ১২ বছর এবং মেয়ে শিক্ষার্থী। টমাহক দিয়ে চালানো এই হামলাকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, ইরানের বিভিন্ন স্থানে অবিরাম হামলা শিশুদের সুবিধা এবং অবকাঠামো ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ৩১৬টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ৭৬৩টি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব হামলা এবং সহিংসতার কারণে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ইরানের অন্তত পাঁচ কোটি ২০ লাখ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কেউ অনলাইন শিক্ষায় স্থানান্তরিত হয়েছে, কেউ বা একেবারেই শিক্ষা পাচ্ছে না।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের ৬৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টি স্কুল। ইসরায়েলের হামলায় দেশটির স্কুলগুলো বারবার বন্ধ হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক আহমদ আলহেন্দাউই বলেন, “প্রতিটি সংঘাতে, সাধারণত শ্রেণিকক্ষগুলো প্রথম বন্ধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুনরায় খোলা হয়। প্রতিটি সংঘাত পাঠ যুদ্ধের ক্ষতকে আরও গভীর করে। সব শিশু সহিংসতা থেকে পালাতে পারে না বা তাদের শিক্ষা অনলাইনে চালিয়ে যেতে পারে না। একবার স্কুল ছাড়লে অনেকেই আর কখনও ফিরে আসে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্কুলগুলো সুরক্ষিত স্থান এবং এগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সমতুল্য হতে পারে। সবাইকে অবশ্যই যুদ্ধের আইন মানা উচিত।”

মানসিক ক্ষতি

রক্তপাত এবং সংঘাত শিশুদের “ট্রমাটিক” করে তুলে। সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ মস্তিষ্কের বিকাশ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

ইরানে প্রায় পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। তবে, স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো এখনও সম্প্রচারিত হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল সংবাদ বুলেটিনগুলোর মাঝের একটি অংশ সম্প্রচার শুরু করেছে, যেখানে শিশুদের ভয় ও উদ্বেগ মোকাবেলার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়।

আলহেন্দাউই বলেন, “প্রতি যুদ্ধই শিশুদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ। শিশুদের জীবন ভয়ের মধ্যে কেটে যাচ্ছে। তারা যুদ্ধের ক্রসফায়ারে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং প্রতিটি সংঘাতে শিশুদের নিরাপদ রাখা আবশ্যক।”

/এবিএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য সুখবর
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য সুখবর
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম