বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন পথে?

সুনয়না ঘোষাল, দিল্লি
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১

অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের চলমান ভারত সফরকে ঘিরে উত্তেজনা না থাকলেও মনোযোগ আছে। ভারতও তার এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে গুরুত্ব দিলেও এই সফর নিয়ে একটি ‘রিজার্ভেশন’ রয়েছে। রিজার্ভেশন বলছি যে জায়গা থেকে, তা হলো—পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে তারা বাংলাদেশের প্রতি আচরণে খুব একটা নমনীয় হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে সেটি একসময় হতে হবে, সফরটাও দরকার। অনেক ঝুলে থাকা কাজ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আসতেই হয়েছে, ভারতকেও আমন্ত্রণ জানাতে হয়েছে।

এই সফরের মজার ব্যাপার হলো, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সফর করছেন, অথচ ভারত এ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, সাক্ষাৎ করছেন, কিন্তু সফরটির স্ট্যাটাস কী—সেটি ভারতের দৃষ্টিতে স্পষ্ট নয়। আমরা বারবার জানার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বিবৃতি বিষয়ে জিজ্ঞেস করাতে তিনি জানিয়েছিলেন, যেকোনও সময় বিবৃতি আসবে, কিন্তু পরে আর আসেনি। এতে তিনিও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়েছেন। ভারত ‘দেখছি, দেখবো’ বলে সময় কাটিয়েছে। পরে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়—এটি আসলে একটি ট্রানজিট ভিজিট; তিনি মরিশাস যাচ্ছেন, তার আগে দিল্লিতে এক-দুই দিন অবস্থান করছেন। ফলে এটি ট্রানজিট ভিজিট হওয়ায় আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এটি অস্বস্তিকর একটি বিষয়। এ কারণে সোমবার বিকালে ঢাকার প্রেস কনফারেন্সে এটিকে ‘গুডউইল ভিজিট’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এটিকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এটি প্রথম ইঙ্গিত, যেখান থেকে বোঝা যায়—এই বৈঠকটি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। এই অস্বস্তির কারণ মূলত রাজনৈতিক—পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে তারা বাংলাদেশের প্রতি নমনীয়তা দেখাতে চায় না।

তারপরও বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে ইতিবাচক কথাবার্তাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একসঙ্গে এয়ার মরিশাসের ফ্লাইটে যাচ্ছেন। বোঝা যাচ্ছে, সেখানেও আলোচনা চলবে।

পুরো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই দেশের স্বার্থ পরস্পরের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে পারস্পরিক প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। ভারতের বিপুল বিনিয়োগ বাংলাদেশে রয়েছে—তা কি ফেলে দেওয়া সম্ভব? কখনওই নয়। আবার বাংলাদেশের দিক থেকেও পেঁয়াজ, তেলসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বিকল্প পাওয়া কঠিন। অন্য জায়গা থেকে আনতে গেলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা বাস্তবসম্মত নয়।

অর্থাৎ, দুই দেশেরই একে অপরকে প্রয়োজন—এটি সবাই জানে। কিন্তু একই সঙ্গে দুই পক্ষেরই নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিজেপিকে নির্বাচনে জিততে হয়, হিন্দুত্ববাদী সেন্টিমেন্ট ধরে রাখতে হয়—এসবই বাস্তবতা।

ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলাই—আমার মতে—বিএনপি-বিজেপি দুই সরকারের আমলের সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। এই সফর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে। আর যেহেতু সামনে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন, তাই ভারতও বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেনি; বাংলাদেশও প্রয়োজনীয় আলোচনা সেরে ফিরে গেছে।

/এম/  
সম্পর্কিত
‘কোথায় আমার জন্মভূমি, কোনটা আমার দেশ’
মমতার তৃণমূল কি কংগ্রেসে বিলীন হচ্ছে?
জাপানের পর এবার যে কারণে ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করলো নেপাল
সর্বশেষ খবর
আকাশে তিন গ্রহের ‘মিনি প্যারেড’
আকাশে তিন গ্রহের ‘মিনি প্যারেড’
ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মা-ছেলের মৃত্যু
ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মা-ছেলের মৃত্যু
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে
পুশ ইন: সীমান্ত নজরদা‌রিতে বিজিবির সঙ্গে আনসার ও গ্রামপুলিশ
পুশ ইন: সীমান্ত নজরদা‌রিতে বিজিবির সঙ্গে আনসার ও গ্রামপুলিশ
সর্বাধিক পঠিত
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
পেট্রোল ঢেলে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
পেট্রোল ঢেলে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
গ্রীষ্মে ২৪ ঘণ্টা দিন, শীতে অন্তহীন রাত!
গ্রীষ্মে ২৪ ঘণ্টা দিন, শীতে অন্তহীন রাত!