জাপানের পর এবার যে কারণে ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করলো নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬, ১৬:১৮আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৬:১৮

জাপানের পর এবার প্রতিবেশী দেশ নেপালও ভারত থেকে আমসহ আরও বেশ কয়েকটি ফল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানা গেছে। নেপালের দ্য রাইজিং নেপালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানিকৃত ফলের চালানে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত মাসে জাপানও ভারতীয় আম আমদানি স্থগিত করেছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিদর্শনের সময় জাপানি কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষ ভারতের প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি খুঁজে পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের বিরুদ্ধে গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই প্রথম এ ধরনের পদক্ষেপ। এর আগে ফ্রুট ফ্লাই বা ফলখেকো মাছির সমস্যার কারণে জাপান ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল এবং ভারত তার প্রক্রিয়াকরণ মান জোরদার করার পর ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

গত মার্চ মাসে জাপানের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের একটি দল উত্তর প্রদেশের রহমানপুর এলাকা পরিদর্শন করে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ধূমায়ন ও জীবাণুনাশক ব্যবস্থার ঘাটতি পাওয়া যায়। এই নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা, যারা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।

অন্যদিকে নেপালের কৃষি ও পশুপালন উন্নয়ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা গত এপ্রিল-মে মাস থেকে কার্যকর রয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমের সর্বোচ্চ মৌসুমের রফতানি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর প্রভাব পড়বে আলফোনসো, দশেরি, চৌসা, কেসর, লেংড়া ও ভাঙ্গানাপল্লীর মতো জনপ্রিয় ভারতীয় জাতগুলোর ওপর।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্য রাইজিং নেপালকে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ ছাড়াই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যা ব্যবসার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জনকপুরধামের ফল ও সবজি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভুবনেশ্বর পুর্বে বলেন, দেশের আমের মোট চাহিদা মেটানোর জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হয়তো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার উন্নতি করার এবং আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পরিবর্তে সঠিক গুণমান পরীক্ষার পর ভারতীয় ফল প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান।

প্রসঙ্গত ভারত প্রতি বছর প্রায় ২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে, যার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩২,০০০ মেট্রিক টন রফতানি হয় এবং বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত হয়। ভারতের শীর্ষ ৫টি আমের জাত রফতানির প্রধান গন্তব্যগুলো হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং সৌদি আরব। যদিও ভারতীয় আম রফতানির জন্য নেপাল কোনও বড় বাজার নয়, তবুও এই বিধিনিষেধের ফলে আলফোনসো, দশেরি, চৌসা, কেসর, লেংড়া এবং ভাঙ্গানাপল্লীর মতো উন্নত জাতগুলোর চালানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

/এএস/
সম্পর্কিত
হরমুজের যৌথ নিয়ন্ত্রণের ওমানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের পরই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘চমৎকার’ বৈঠক, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু
সর্বশেষ খবর
ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াত
হরমুজের যৌথ নিয়ন্ত্রণের ওমানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
নেতাকর্মী নিয়ে নতুন ইউএনওকে সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত এমপি, পদমর্যাদা নিয়ে বিতর্ক
নিজেদের পিকআপে ঘুরতে যাওয়ার আবদার স্ত্রীর, মবের শিকার হয়ে কারাগারে দম্পতি
সর্বাধিক পঠিত
মেসির ৩ ছেলের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো ফুটবলার হতে পারে?
ইরানের ‘মশা নৌবহরের’ প্রশংসায় পুতিন, বললেন যুদ্ধে বেশ কার্যকর
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: তিন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা