লোহিত সাগরের উপর সেতু নির্মাণ করে সৌদি আরব ও মিসরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ। মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি একে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
পাঁচ দিনের এক সফরে এখন মিসরে অবস্থান করছেন বাদশা সালমান। সফরে তিনি আরও বেশকিছু বাণিজ্যিক ও সহযোগিতামূলক চুক্তির ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি বলছে, মিসরের রাজধানী কায়রো সফররত সৌদি বাদশা সালমান শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। আর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি বাদশা। সেতুটি দুই মিত্রদেশের বাণিজ্যে গতি আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বাদশা সালমান বলেন, ‘আমি আমার ভাই মাননীয় প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তা আল সিসির সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে একমত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশকে সংযুক্ত করার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এমন একটি যুগান্তকরী পরিবর্তন আনবে যা দুই মহাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিকে নজিরবিহীন সাফল্যে উত্তীর্ণ করবে।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, ‘আরবদের যৌথ উদ্যোগের পথে এই সেতু এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’ সৌদি বাদশার নামে সেতুটির নামকরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকবার লোহিত সাগরের উপর দিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে সংযোগকারী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সেসব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। আগের পরিকল্পনাগুলোতে সেতুটি নির্মাণে তিন থেকে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় সেতু নির্মাণের ব্যয় কতো ধরা হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুসলিম ব্রাদারহুডের মুহম্মদ মুরসিকে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি। সিসির ক্ষমতা গ্রহণের পর মিশরকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশগুলো। শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরানের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব বন্ধুভাবাপন্ন সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর একটি জোট গঠনের উদ্যোগে মিসরকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
/বিএ/








