যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের পুলিশ বাহিনী বর্ণবাদী মনোভাবে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। পুলিশের নির্বিচার গুলির বিরোধিতা করে জনগণের প্রতিবাদের মুখে বিশেষ এ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তদন্তের পর, টাস্ক ফোর্স জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের গুলির শিকার শিকাগোর শত শত মানুষের ৭৪ ভাগই আফ্রিকান-আমেরিকান। অবশ্য শহরটির মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিকাগোর মানুষের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রতি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক আর আস্থাহীনতা খুবই যৌক্তিক। টাস্ক ফোর্সের প্রধান লরি লাইটফুট এ প্রতিবেদনটিকে ‘পরিবর্তনের রূপকাঠামো’ হিসেবে উল্লেখ করে নগর পুলিশ ও কর্মকর্তাদেরকে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আহবান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের টিভি বিজ্ঞাপনেও মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী বক্তব্য
এদিকে শিকাগোর নতুন পুলিশ প্রধান ইডি জনসন বাহিনী থেকে বর্ণবাদ নির্মূল করার শপথ নিয়েছেন। পুলিশ প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আফ্রিকান-আমেরিকান এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ রয়েছে। শিকাগোতেও বর্ণবাদ আছে। আর সেকারণে আমাদের সংস্থাতেও বর্ণবাদের খানিকটা অস্তিত্ব রয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো তা নির্মূল করা।’
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী গ্রেগ লিভিংস্টন বলেন, ‘প্রতিবেদনটি সচেতনতা বাড়াবে এবং অন্ধকারে আলোর দিশা দেবে।’
আরও পড়ুন: হলিউডের সিনেমায় শ্বেতাঙ্গ-সামরিক আধিপত্য আর মুসলিম বিরোধিতার নির্মাণ
উল্লেখ্য, শিকাগোতে শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তা লাকোয়ান ম্যাকডোনাল্ড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে গুলি করার পর জনগণের বিক্ষোভের মুখে জনসন পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শিকাগো পুলিশের গুলি করার প্রবণতা নিয়ে তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, শিকাগোর পুলিশ বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তর পুলিশ বাহিনী।
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিকাগোতে আগের বছরের তুলনায় গত কয়েক মাসে হত্যাকাণ্ডের হার বেড়ে ৮৪ শতাএশ দাঁড়িয়েছে। গত ২০ মার্চ পর্যন্ত শহরটিতে ৫৭৫টি গুলির ঘটনা এবং ১২৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ২০১৫ সালের একই সময়ের মধ্যে গুলির ঘটনা ছিল ২৯০টি আর হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৬৮টি। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/








