শক্তির ভাষা ছাড়া কিছু বোঝে না ইসরায়েল: হিজবুল্লাহ প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯

ইসলায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অভ্যাহত থাকবে উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েল শুধু শক্তির ভাষা বোঝে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ২০০৬ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ৩৩ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে কাসেম বলেন, দখলদার ইসরায়েল শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে—২০০৬ সালের যুদ্ধ তা প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি কারাগারে আটক লেবানিজ বন্দিদের মুক্তির লক্ষ্যে হিজবুল্লাহ দুই ইসরায়েলি সেনাকে আটক করার পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়। বন্দিদের মুক্ত করতে সব ধরনের যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।

কাসেম বলেন, ‘কারাগারে থাকা আমাদের বন্দিদের পরিত্যাগ করা হবে না—এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ওই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তাহলে ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা ও চাপ সৃষ্টি না করে কীভাবে পরিস্থিতির সমীকরণ পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল? কারণ তারা শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে।’

তবে তিনি বলেন, প্রচলিত সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ওই অভিযান ইসরায়েলের আগ্রাসনকে বৈধতা দেয়নি। পরে স্পষ্ট হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েল ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরেই বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী, জনগণ ও প্রতিরোধের ঐক্যের কারণে যুদ্ধটি ‘অহংকারী’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই বিজয়ের ফলে লেবানিজ বন্দিদের মুক্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধের ফল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধমূলক ভারসাম্য তৈরি করেছিল এবং প্রতিরোধের গুরুত্ব প্রমাণ করেছিল।

কাসেম বলেন, ‘এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে প্রতিরোধ পরিস্থিতির সমীকরণ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এটি একটি চলমান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা।’

২০০৬ সালের ৩৩ দিনের যুদ্ধ ১৪ আগস্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মার্চে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সর্বশেষ আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে কাসেম বলেন, ‘আমাদের কাছে এই যুদ্ধ ছিল অস্তিত্বের জন্য পরিচালিত আগ্রাসনের যুদ্ধ।’ তিনি বলেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ‘কারবালার মতো এক সংঘাতে’ লড়াই করেছেন, যেখানে তাদের সামনে দুটি পথ ছিল—‘হয় আমরা ভেঙে পড়ব ও আত্মসমর্পণ করব এবং ইসরায়েলিরা জয়ী হবে, অথবা আমরা অবিচল থাকব এবং ইসরায়েলি প্রকল্পকে পরাজিত করব।’

তিনি দাবি করেন, প্রতিরোধ ইসরায়েলি যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো ব্যর্থ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

কাসেম বলেন, ‘যারা আমাদের আত্মসমর্পণের ওপর বাজি ধরছে, তারা মরীচিকার ওপর বাজি ধরছে এবং তারা প্রতিরোধকে ভালোভাবে চেনে না।’

লেবাননের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তিতে সই করে এবং দেশটির ‘নির্দেশের’ কাছে নতি স্বীকার করে লেবাননের কর্তৃপক্ষ কার্যত দেশের সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করেছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরায়েলকে এ অঞ্চলে আগ্রাসন ও গণহত্যা চালাতে আরও উৎসাহিত করেছে।

ইসরায়েলের চলমান হামলায় বাড়িঘর ও গ্রাম ধ্বংস, লেবাননের ভূমি দখল এবং মানুষ হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বৈরুত সরকারের প্রতি কাসেম আহ্বান জানান, ‘এই গুরুতর পাপ, এই লজ্জাজনক ভুল এবং এই অপমানজনক সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসুন।’

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘আত্মসমর্পণের’ শামিল। কাসেম বলেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ মেনে নেব না। আমরা অবিচল থাকব এবং আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন কিংবা শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।’

ইসরায়েলের আগ্রাসন ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধের দৃঢ় অবস্থান এবং ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন কাসেম।

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, কাঠামোগত চুক্তির কারণে তিন লাখ মানুষ দক্ষিণে ফিরে গেছেন—এটি হাস্যকর। মানুষকে ফিরিয়ে এনেছে ইসলামাবাদ চুক্তি এবং বিস্তৃত পরিসরে যুদ্ধ বন্ধও হয়েছে ওই চুক্তির কারণে।’

তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন। যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে চুক্তিটি সই হলেও যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনের কারণে তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে বলে পুনর্ব্যক্ত করে কাসেম বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমরা বিজয়ের আরও পর্ব দেখতে পাব। সব কষ্টের মধ্যেও আমাদের সহ্য করতে হবে, কারণ আমরা দাঁড়িয়ে আছি এবং আমাদের দৃঢ়তা বিজয়ের পথে একটি ধাপ।’

লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৩৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২৩৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

এদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা এখনো দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি ২০২৩-২৪ সালের সামরিক অভিযানের সময় দখল করা এলাকাও রয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

/আইএএম/
সম্পর্কিত
প্লাজিয়ারিজম বিতর্কে পদত্যাগ করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার
সৌদি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ফের ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়নি: ইরান
সর্বশেষ খবর
প্লাজিয়ারিজম বিতর্কে পদত্যাগ করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার
প্লাজিয়ারিজম বিতর্কে পদত্যাগ করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার
খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তারেক রহমান
খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তারেক রহমান
সিলেটে ৩ খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, যা বলছেন নিহত দম্পতির মেয়ে
সিলেটে ৩ খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, যা বলছেন নিহত দম্পতির মেয়ে
সৌদি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ফের ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ফের ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সর্বাধিক পঠিত
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক
ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী