পশ্চিম তীরে গুরুতর রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) হামলা ইসরায়েলের জন্য ‘গুরুতর’ রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে এসব সহিংসতা পশ্চিম তীরে মোতায়েন ইসরায়েলি সেনাদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কঠোর আইন প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেনাদেরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও সহায়তার অভাবেও তারা কাজ করছেন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের ওপর এসব হামলা ‘পুরো বিশ্বের চোখের সামনে’ ঘটছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

শুক্রবার হেবরন প্রদেশের সাইর শহরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার পর কর্মকর্তাদের এই সমালোচনা সামনে আসে। ওই ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কারিম শালালদেহ নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

কান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একদল বসতিস্থাপনকারী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আগাম সমন্বয় না করেই ‘ভ্রমণের’ উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিল। পরে তারা ফিলিস্তিনিদের পাথর নিক্ষেপের শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে হেবরনের আল-মিজান হাসপাতালের একটি চিকিৎসাসূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে কারিম শালালদেহের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বাবা সানাদ শালালদেহের অভিযোগ, প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের একজন খুব কাছ থেকে তার ছেলেকে গুলি করে।

তিনি বলেন, তার ছেলে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কোনো কিছুই করছিল না। হামলাকারীদের সরে যেতে বলার পর একজন তার বুকে গুলি করে তাকে হত্যা করে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি তাদের সম্পত্তির ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতার পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

/আইএএম/
সম্পর্কিত
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান চীনের
‘রাজনীতিতে আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না’, নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
‘জামায়াতের আদর্শে এনসিপি একাকার হয়ে গেছে’: ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ
‘জামায়াতের আদর্শে এনসিপি একাকার হয়ে গেছে’: ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ
বাঁশ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, এলাকা থেকে গড়ালো হাসপাতালে
বাঁশ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, এলাকা থেকে গড়ালো হাসপাতালে
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক 
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক 
দাম্পত্যের ১৪ বছর, বিবাহবার্ষিকীতে কারিনা-সাইফ আলীর নতুন খবর
দাম্পত্যের ১৪ বছর, বিবাহবার্ষিকীতে কারিনা-সাইফ আলীর নতুন খবর