যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন। একই সঙ্গে জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি পণ্যের রফতানিতে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, ইউরোপ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তেমনটি ঘটলে ইউরোপে মার্কিন ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতো এবং মহাদেশজুড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতো। বিশেষ করে, সামনে নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে মরিয়া হয়ে উঠেছে হোয়াইট হাউজ।
জি-সেভেনের যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে এই সমন্বিত জ্বালানি সরবরাহ অবিলম্বে শুরু হবে এবং তা আগামী চার মাস ধরে চলবে। এর মধ্যে একটি বড় অংশের ডিজেল আগামী ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে ছাড়বে জি-সেভেনের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো।
তবে এই চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কোন দেশ কত পরিমাণ ক্রুড বা ডিজেল সরবরাহ করবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট বিভাজন বা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রফতানি নিষেধাজ্ঞার হুমকি এড়াতেই জি-সেভেনের পক্ষ থেকে এই বিশাল পরিমাণের রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জি-সেভেনের এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরেছে। খবর প্রকাশের পর মার্কিন ডিজেল ফিউচার্স ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচার্সের দাম টনপ্রতি প্রায় ৮৩ ডলার বা ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধের জেরে আইইএ-এর সমন্বয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, অর্থাৎ ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি রিজার্ভ বাজারে ছাড়া হয়েছিল। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই জি-সেভেনের এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো।